পাকা রাস্তার অভাবে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়নশ্রী

Print

মাত্র দুই কিলোমিটার পাকা রাস্তার অভাবে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর, তুইতাল, বকচর, শৈল্যা, আবজালগর, চকখানেপুর, রাধাকান্তপুর, নয়নশ্রীসহ প্রায় ১০টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে। উপজেলার সব স্বনামধন্য স্কুল-কলেজ, চিকিৎসালয় ও ব্যাংক শাখা গড়ে উঠেছে উপজেলার বান্দুরা ও নবাবগঞ্জে। শিক্ষায় এই এলাকার বাসিন্দারা বেশ আগ্রহী হলেও যোগাযোগ অবকাঠামোর অভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তারা।

13015224_1162329190486251_2387722017642721010_n

একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। এ সময় শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের কষ্টের সীমা থাকে না। তাই এলাকাবাসীর দাবি বান্দুরা থেকে খানেপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিমি পাকা রাস্তা নির্মাণের।স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় এলাকাগুলো উপজেলার অন্যান্য গ্রামের তুলনায় বেশ এগিয়ে। লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগী এ এলাকার শিক্ষার্থীরা। এলাকার বেশিরভাগ পরিবারের সদস্য প্রবাসী। তাই ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে তারা বেশ তৎপর। পিতামাতার আগ্রহে এলাকার প্রায় ছেলেমেয়েই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গেই পাস করে। কিন্তু এলাকাটি থেকে কলেজ খানিকটা দূরে অবস্থিত। হাঁটা ছাড়া অন্য কোন মাধ্যম না থাকায় মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সেবা নিতে এই এলাকার বাসিন্দাদের ২ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যাওয়ার পর মিলে যানবাহন। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা হাঁটু-কাদায় ভরপুর হয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা কলেজে যেতে পারে না। এর মধ্যে রাতে কেউ অসুস্থ হলে ওই পরিবারের বিপদের সীমা থাকে না। অসহায় হয়ে খাটে করে নিয়ে যেতে হয় বান্দুরা হাসপাতালে। এতে ৫ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে ঘণ্টারও বেশি। অনেক সময় নারীর প্রসব বেদনায় যথাসময়ে ডাক্তারের কাছে নিতে না পারলে পড়ে যায় মৃত্যুঝুঁকিতে।

উন্নয়ন বঞ্চিত নয়নশ্রী : পাকা রাস্তার অভাবে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন

 তবে বিগত সময় জনপ্রতিনিধিদের এমন আশার অনেক বাণী শুনেছেন এলাকার বাসিন্দারা। মাত্র ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকা হলে তারা উপজেলার সব সুযোগ পাবে অনায়াসে। বারবারই নির্বাচনী জনসভায় এ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত এ এলাকার কথা আর তাদের মনে থাকে না।গত কয়েক বছর আগেও এ এলাকার খানেপুর-আলালপুর ইছামতি নদীর ওপর খানেপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করে একটি বিশাল বাঁশের সাঁকো। সেই সাকো উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান খানের স্ত্রী হাসিনা মান্নান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তিনি এ নদীর ওপরে একটি সেতু নির্মাণ করে উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করেন। সেই প্রতিশ্রুতির আঙ্গিকে এলাকাবাসীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় অর্থ। আর এ অর্থ দিয়ে পরীক্ষা করা হয় নদীর সয়েল। সয়েল টেস্ট হলেও এখনও আলোর মুখ দেখেনি সেতুটি। বর্তমান এমপি সালমা ইসলামের এই নতুন আশ্বাসের পর এলকাবাসী বলছেন, যদি তিনি অবকাঠামোগত এসব উন্নয়ন করেন তাহলে এলাকাবাসী তাকে চিরদিন মনে রাখবে। আবারও ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবে। আর যদি আগের এমপিদের মতোই শুধু আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যায় তাহলে তাকেও প্রত্যাখ্যান করবে এলাকাবাসী। তাই এলাকাবাসী এবার একমত হয়েছেন, রাস্তা নির্মাণসহ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে যে জনপ্রতিনিধি অবদান রাখবেন তার পাশেই থাকবেন তারা।

উন্নয়ন বঞ্চিত নয়নশ্রী : পাকা রাস্তার অভাবে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন
এছাড়া বকচর গ্রামবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নিকট কয়েক দশক যাবত বকচর টু তুইতাল এর খালের উপর একটি ব্রীজ নির্মানের দাবি জানিয়ে আসছে। এই ব্রীজটি হলে স্থানীয় জনগনের বহুদিনের আশা পূর্ণ হবে এবং জনদুর্ভোগ দূর হবে। বকচর ও এর আশেপাশের গ্রামের মানুষগুলো খুব সহজে তুইতাল বাজারে যাতায়াত করতে পারবে। এছাড়া বকচর-তুইতাল উচ্চ বিদ্যালয় এবং তুইতাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই ২টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সহজেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে, যা ছাত্র-ছাত্রীদের পরিক্ষায় ভাল ফলাফল ও স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে সহযোগী হবে ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 43 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ