পাকিস্তানসহ ১০ দেশের জন্য আগাম সতর্কতা

Print

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%b9-%e0%a7%a7%e0%a7%a6-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8dবিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে ১০ দেশের নাগরিকদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ কারণে ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ ১০ দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রদান ও চলাফেরার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলা হয়েছে। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এ ছাড়া তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রস্থল কাকরাইল মসজিদের আমির এবং ইজতেমার সংগঠকদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে শিল্পনগরী টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে প্রতিবছরের মতো সুবিশাল চটের শামিয়ানার নিচে তিন দিনব্যাপী ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে। প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পর চার দিন একটানা বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি থেকে আবার দ্বিতীয় পর্বের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে। প্রথম পর্বের শেষ দিন ১৫ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন ২২ জানুয়ারি বিশ্ব মুসলিম জাহানের সুখ, শান্তি কামনা করে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এবারও বিদেশি ২৫ হাজারসহ ১০ লক্ষাধিক মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরসহ সরকারবিরোধী নাশকতাকারীরা তাবলিগ জামাতের ছদ্মবেশে নিজেদের আড়াল করছে। তারা ইজতেমা মাঠেও নাশকতা চালাতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে কাকরাইলের কেন্দ্রীয় মসজিদের তাবলিগ সংগঠকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দুই পর্বের এ ইজতেমাকে ঘিরে থাকছে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে এমন ধরনের কার্যক্রম। পুলিশ ও র‌্যাব সদর দফতর সূত্র জানায়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এবারের ইজতেমায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আগাম তথ্য দিয়েছে।
যে ১০ দেশের ব্যাপারে সতর্কতা : গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগ জামাতে অন্তত ১০টি দেশের নাগরিকদের আসা-যাওয়ার ভিসার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সতর্কতা আরোপ করা দেশগুলো হলো— পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তন, ইরাক, সুদান, সিরিয়া, জর্ডান, মিসর ও ইয়েমেন। সূত্র জানায়, দেশের বাইরের জঙ্গি গোষ্ঠী ছাড়াও দেশের নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্ক আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারও ইজতেমাস্থল টঙ্গীর মাঠসহ আশপাশের এলাকায় ৬০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। ইজতেমা শুরুর তিন দিন আগে পুরো এলাকা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে। বিদেশি মেহমানদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা। আকাশপথে টহল দেবে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার মো. গিয়াসউদ্দিন জানান, দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেবেন এ ইজতেমায়। প্রতিবছরের মতো এবারও ৩২ জেলাওয়ারি খিত্তায় অবস্থান নেবেন মুসল্লিরা। তুরাগ তীরবর্তী ১৬০ একর বিস্তৃত ময়দানের উত্তর-পশ্চিমে তৈরি হবে বয়ান মঞ্চ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 88 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ