পাচারকারীদের ফাঁদে সিলেটের হাজারো তরুণের স্বপ্নের মৃত্যু

Print

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%9fসিলেটে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে মানবপাচারকারী চক্র। বিভিন্ন ট্রাভেলসের নামে অবৈধ পথে মানবপাচারের ব্যবসা সাজিয়ে কেবলই নিজেদের পকেট ভারী করে তুলছে। তাদের পাতা ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেকেই। মানবপাচারেই সীমাবদ্ধ নয় চক্রটির কর্মকাণ্ড, জিম্মি করে অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। আর তাই অনেকেই আছেন জীবন হারানোর শঙ্কায়।
মানবপাচারে সিলেটের শক্ত সিন্ডিকেটটি নজরে আসে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে অবৈধভাবে লিবিয়াগামী ৩৯ জনকে আটকের পর। ১৩ই অক্টোবর র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া এই ৩৯ জনের বেশির ভাগই সিলেটের বাসিন্দা। তখন র‌্যাব-৯ জানিয়েছিলো তারা মানবপাচারে পেছনের হোতা হিসেবে সিলেটের দুটি ট্রাভেলসের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে।

শামীম ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস ও মামুন ট্রাভেলস ছাড়াও পাচারকারীদের যে ৩০ জনের নাম পায় র‌্যাব এর মধ্যে ১৭ জনই সিলেটের। যাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত নগরীর অলিগলিতে গড়ে ওঠা লাইসেন্সবিহীন ট্র্যাভেলসগুলোই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
বাংলাদেশ ট্র্যাভেলস এজেন্সি সমিতির সিলেটের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, সিলেটের ট্র্যাভেলস এজেন্সিগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই কোনো লাইসেন্সই নেই। তিনি তথ্য দেন, আল মামুন ট্র্যাভেলস এবং শামীম ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলসেরও কোনো ধরনের লাইসেন্স নেই। ভুয়া ও অবৈধ ট্র্যাভেলস এজেন্সির কারণে তাদের দুর্নাম হচ্ছে জানিয়ে আবদুল জলিল বলেন, বেশ আগে তারা ১০০টি অবৈধ ট্র্যাভেলস এজেন্সির তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছিলেন।
র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রামে আটক হওয়াদের মধ্যে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ফাহিম আহমদ ইতালি পৌঁছে দেয়ার শর্তে দালালদের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। একই লক্ষ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলার আবদুল মোমিন আট লাখ টাকা চুক্তি করেছিলেন দালালদের সঙ্গে।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মোহাম্মদ লিটন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় দালালদের সঙ্গে রফা করেছিলেন, তারও উদ্দেশ্য ছিল লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাড়ি জমানো। লিটনের কাছে পাওয়া লাইফ জ্যাকেট থেকে র‌্যাবের ধারণা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য তিনি ‘প্রস্তুতি’ই নিয়ে এসেছিলেন।
বিভিন্ন ট্র্যাভেলস এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ভুক্তভোগীরা তেমন প্রতিকার পাচ্ছেন না। তবে র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত হয়েছে। ৪টি ট্র্যাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া ট্র্যাভেল এজেন্সিসহ বেশকিছু আইএলটিএস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নজরে রয়েছে।
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা তথ্য দেন, মানবপাচারের মূল হোতাদের তিনজনকে ইতিমধ্যে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন, আরো ৬/৭ জন তাদের নজরে রয়েছেন। যেকোনো সময় এদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 55 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ