পানের বরজ আমাদের নিজস্ব ব্যাংক

Print

পানের বরজ আমাদের নিজস্ব ব্যাংক ‘প্রতিদিন আয় চাষ করি তাই’ একবার লাগালে কয়েক বছর পাওয়া যায় !

pan-pic-jhenaidah

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
পানের বরজ আমাদের নিজস্ব ব্যাংক ‘প্রতিদিন আয় চাষ করি তাই’একবার লাগালেই আর লাগাতে হয়না, সারা বছর পান পাওয়া যায়। হঠাৎ প্রয়োজন মেটাতে কয়েক পোন (৮০টি) পান তুলে বিক্রি করলেই চলে। পান চাষ থাকাতে টাকা পয়সার ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিন্তে থাকি। কথাগুলো বলছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাবেক বিন্নি গ্রামের পান চাষি কামাল হোসেন।

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার ৮ নং চাঁদপুর ইউনিয়নের সাবেক বিন্নি, লক্ষীপুর, দূর্লভপুর, বেড় বিন্নি, শেখপাড়া, দরি বিন্নি, যাত্রাপাড়া বিন্নি গ্রামে কমপক্ষে ৭০০ বিঘা জমিতে পানের বরজ আছে। পান চাষের সাথে জড়িত আছে কমপক্ষে ৪’শ পরিবার। পানের বরজে শ্রমিক হিসেবে প্রতিদিন কাজ করে কমপক্ষে ২ হাজার লোক। পান চাষের কারণে চাঁদপুর ইউনিয়নের চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ঠ সচ্ছল বলে দাবী করেন ছোট ভাদ্রা গ্রামের পান চাষি বাল্মক।

পানচাষি কামাল হোসেন জানান তিনি ২৫ বছর ধরে পান চাষ করছেন। এ চাষে তার পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে। শুধু কামালই নয় পান চাষ করে স্বচ্ছল হয়েছেন সাবেক বিন্নি গ্রামের বশির, নজরুল, খাইরুল, আমিরুল, গোলাম রসুল, ছোট ভাদ্রা গ্রামের বাল্মক, সনজের প্রমূখ। তারা জানান একবার পান লাগালে কয়েক বছর ধরে একাধারে পান পাওয়া যায়।

এক বিঘা জমিতে পান চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। পান ভালো হলে বছরে ঐ এক বিঘা জমি থেকে কমপক্ষে ৬ লক্ষ টাকা আয় হয়। পান চাষি সনজের জানান, অন্যান্য ফসল থেকে এক বারে আয় হয়। তবে ফসল নষ্ঠ হয়ে পুঁজি হারনোর ভয়ও থাকে। এছাড়া অন্যান্য ফসল থেকে প্রতিদিন কিংবা সাপ্তাহিক আয় হয় না তাই অন্য ফসলের তুলনায় এই এলাকার চাষিরা পান চাষে আগ্রহী বেশি। পরিবহন খরচও নেই বললে চলে।

স্থানীয় সাবেক বিন্নি বাজারে সোম ও শুক্রবার হাট বসে। এই হাটেই পান চাষিরা তাদের পান নিয়ে আসে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ভৈরব, ফরিদপুর থেকে পান ব্যবসায়ীরা পান কিনতে এই হাটে আসে। সাবেক বিন্নি বাজারে প্রতি হাটে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়।

পান চাষিরা জানান পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন মাসে পানের ফলন ভালো হয় এবং এ সময় পানের দামও ভালো পাওয়া যায়। তবে ২/১ বছর অন্তর পানের গোড়া পঁচা রোগ হয়। এ সময় অনেকের পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়। পানের এই রোগ নিয়ন্ত্রন করা গেলে চিন্তা মূক্ত থাকা যেত।

নজরুল নামে এক পান চাষী জানান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসারেরা পানের বরজে কখনো আসে না এবং কোন খোঁজ খোবর নেয়না । এরই কারণে বরজে রোগবালাই হলে পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়।

পান ব্যবসায়ী আবদার জানান, সুস্বাদু মিষ্টি পান চাষ করে পান এ অঞ্চলের চাষির জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। যা ঝিনাইদহের মানুষের ভাগ্য বদলে যেতে পারে। যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যসহ আর যেসব দেশে এখানকার পানের চালান যাচ্ছে তা যে আরো বাড়বে সে বিষয়েও কোন সন্দেহ নেই।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আকরামুল হক জানান, পান চাষ করলে অল্প খরচে অধিক অর্থ পাওয় যায়। আয়ের পরিমানও বেড়ে যায়। পান চাষে সম্ভাব্য সব রকমের প্রযুক্তি সহায়তা ও কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 45 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ