প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পেও দুর্নীতি

Print

%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95রাজধানীতে নতুন ১৭টি সরকারি হাইস্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের উপকরণে চলছে নির্মাণকাজ। ফলে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ভেঙে পড়ছে সীমানাপ্রাচীর, দরজা-জানালা। খসে পড়ছে ভবনের পলেস্তারা। বৃষ্টির পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে কম্পিউটারসহ মূল্যবান পণ্য। টেন্ডারের শর্ত লংঘন করা হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ভুল ডিজাইনে তৈরি হয়েছে স্কুলের প্রাচীর। এক দফা ভবনের নকশা করা হয়েছে। কিন্তু তা সংশোধনের নামে ফের ৪০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র প্রকল্পের নির্মাণকাজ তদারকি কমিটির প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে ঢাকায় ১১টি সরকারি হাইস্কুল ও ৬টি কলেজ নির্মাণ। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মেয়াদ ইতিপূর্বে এক দফা বাড়ানো হয়েছে। ২০১০ সালে শুরু হয়ে ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৩ কোটি ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ৩০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) স্বপন চন্দ্র পাল বলেন, বেশকিছু ত্র“টি ও সমস্যা আছে। এর মধ্যে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে পড়াসহ যে ঘটনা আছে তা আমি এ পদে যোগদানের আগে ঘটেছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ দেখে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি)। তাদের অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভবন সঠিকভাবে নির্মাণ না হলে বুঝে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ নির্মাণের জন্য যে নিষ্কণ্টক জমি প্রয়োজন তা পাওয়া যায়নি। নির্মাণকাজ শুরু করতে গিয়ে মামলাসহ বিভিন্ন ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। তবে সম্প্রতি স্থান পরিবর্তন করে সবুজবাগে দুটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আরও বিভিন্ন সমস্যা চলছে। মামলা জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত ৩টি স্কুল-কলেজের নির্মাণকাজই শুরু হয়নি। বাকি ১৪টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ শেষ না করেই তড়িঘড়ি শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনের অর্ধেক শিক্ষক-কর্মচারী দেয়া হয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।
সূত্র জানায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্মাণ ও পূর্ত কাজ তদারকির জন্য এ প্রকল্পেরই উপপরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা গত ৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিন তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দিয়েছে। তাতে দেখা যায়, শহীদ শেখ রাসেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের প্রাচীর প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি। যে কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। স্কুলে প্রবেশ সড়কের নির্মাণকাজেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
নির্মাণে অনিয়মের কারণে হাজারীবাগের শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব সরকারি কলেজ ভবনের অবস্থা নাজুক। জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে কম্পিউটারসহ মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। কলেজের পূর্বদিক ও পেছনের একাংশের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে পড়েছে। পশ্চিম দিকের দুটি গেটে শাটার লাগানো হয়নি। মাঠ ভরাটেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের কারণ এবং সীমানাপ্রাচীর ও মাঠ পুনর্নির্মাণের জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা কীভাবে সমন্বয় হবে সে বিষয়ে ইইডি কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
ঢাকা উদ্যান সরকারি মহাবিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভবনের দেয়ালে শ্যাওলা ধরে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি ভবনের ভেতরে ঢুকে দেয়াল নষ্ট হয়ে গেছে। তৃতীয় তলার পূর্বদিকের কক্ষ, দক্ষিণ পার্শ্বের দেয়াল ও চতুর্থ তলার আইসিটি ল্যাবসহ সব কক্ষের ভেতরে কালো ফ্যাংগাস পড়েছে। নিুমানের কাজ হওয়ায় ভবনের প্লাস্টার ধসে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা করা হয়নি। সব মিলিয়ে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শুক্রবার বিকালে মোবাইল ফোনে ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইইডিতে পাঠানো হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব নির্মাণকাজ তদারকিকারী এ প্রতিষ্ঠানের। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শোকজের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ভাষানটেক মহাবিদ্যালয়ে এবং গত বছর ভাষানটেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও সীমানাপ্রাচীর ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মিত হয়নি। যে কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলতি বছর শেখ জামাল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সীমানাপ্রাচীরের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) ৬ষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, হাতিরঝিল এলাকায় বড় মগবাজার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণের লক্ষ্যে দশমিক ৯৩১২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণ বাবদ ঢাকা জেলা প্রশাসকের অনুকূলে ৪২ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩১ টাকার চেক দেয়া হয়। কিন্তু ওই জমি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মালিকানা দাবি করে হাইকোর্টে ২০১৩ সালে একটি রিট করে। মামলা জটিলতার কারণে থমকে যায় স্কুল নির্মাণের কাজ। অবশ্য ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী গত ৩ মার্চ স্কুলটি সবুজবাগ এলাকায় নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। এরপর হাতিরঝিল থেকে তা সরিয়ে সবুজবাগে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ওই জমি অধিগ্রহণের অর্থ আদায় করতে পারেননি প্রকল্প কর্মকর্তারা। দুয়ারীপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর কথা। কিন্তু সেখানে জমি বন্দোবস্ত মামলাই নিষ্পত্তি হয়নি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 45 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ