প্রাথমিক সমাপনীতে ভাড়া করা পরীক্ষার্থী

Print

%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%95পরীক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। কিন্তু হলে প্রশ্ন নিয়ে বসেছে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পড়–য়ারা। টাকার বিনিময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হয়ে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে এসেছিল। কিন্তু ধরা পড়ে ৫২ জন।
ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার। গত ২০ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরতে অভিযানে নামে উপজেলা ও শিক্ষা প্রশাসন।
সবশেষ আজ রবিবার ধরা পড়ে ১৭ জন। এর মধ্যে আকাশকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাত জন এবং ডালিয়া চাপানি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১০ জনকে বহিষ্কৃত হয়।
আকাশকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিস্কৃতরা হলো: রিফাত হাসান, বেলাল হোসেন, আনিতা আক্তার, আপন চন্দ্র রায়, সত্যজিৎ রায়, তারেক রহমান এবং সোহেল রানা।
ডালিয়া চাপানি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিষ্কৃতরা হলো: রাসেল রানা, শরীফ হোসেন, শাহরিন ইসলাম, আক্তার নুর শ্যামলী, সুমাইয়া আক্তার, আব্দুর রফিক, লাভলু ইসলাম, রোকনুজ্জামান, হাসি আক্তার ও খুশি আক্তার।
অভিযোগ মতে, নতুন প্রতিষ্ঠিত ২৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির কোন ছাত্র ছাত্রী ছিল না। এসব স্কুলের বেশ কয়েকটি ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পড়–য়া শিক্ষার্থীদেরকে ভাড়া করেছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে দেন কয়েকজন।
পরে তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায় শিক্ষা ও উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ৫২জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরীক্ষার্থীদেরকে উত্তরপত্র লিখে দেয়ার অভিযোগ
ভাড়া করা পরীক্ষার্থী ছাড়াও একটি স্কুলে শিক্ষকদেরকে পরীক্ষার্থীদের খাতা লিখে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এটাও ধরা পড়ে গেছে প্রশাসনের অভিযানে। এই ঘটনাটি ঘটেছে ডালিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
সরেজমিনে ডালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, রবিবারের গণিত পরীক্ষায় প্রতিটি পরীক্ষার্থীর প্রশ্নে সঠিক উত্তর ঠিক দেয়া রয়েছে। পরীক্ষাথীরা জানায়, স্কুলের স্যাররা প্রশ্ন দেয়ার পরে এসে প্রশ্নপত্র উত্তর সঠিক করে দেন।
ওই কেন্দ্রের হল সুপার ও ডালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে শিক্ষক সঠিক উত্তর করে দেয়ার ফলে তাদের মেধা যাচাই করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।’
এই ঘটনাটি কেন ঘটলো সে বিষয়ে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে উত্তর লিখে দেয়াসহ নানা কারণে নয়জন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 97 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ