প্রেম নয়, ফাঁদে পেতে শুধুই লীলা

Print

প্রেম নয়, ফাঁদে পেতে শুধুই লীলা

অনেক চেষ্টা করেও একজন মনের মানুষ জুটল না। তা বলে কি সন্ন্যাসী হয়ে যাব। আর কে বলেছে, সন্ন্যাসীরা সবাই ‘সাধু’। সেই আদ্যিকাল থেকে চলে আসছে। বড় তাবড় মুনিঋষিদের তপস্যা ভঙ্গ করেছেন রম্ভা, উর্বশী, মেনকারা। রতিলীলায় মেতে মেনকা ও বিশ্বামিত্রের একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছিল। শকুন্তলা। তা বলে কি বিশ্বামিত্রমুনি মেনকাকে বিয়ে করেছিলেন? নাকি দুজনের মধ্যে ফাটাফাটি প্রেম ছিল? একেবারেই না। সুন্দরীকে দেখে বড়ই অ’সাধু’ আচরণে লিপ্ত হয়েছিলেন সাধু। সে তো বহুকাল আগের কথা।

আজকের দিনেও সব সন্ন্যাসী কি গ্রহণযোগ্য? সবাইকে কি ‘সাধু’বাদ দেওয়া যায়? সে আশারাম বাপুই বলুন বা স্বামী নিত্যানন্দই বলুন। তার ওপর গতবারের কুম্ভমেলায় যা হলো। সেখানে নাকি কনডমের মহা আয়োজন করা হয়েছিল। সাপ্লাই দিয়েছিল সরকার। মানেটা কী? তার মানে কি, পুণ্য করতে এসেও..?

সে যাই হোক। হরমোন বলে তো একটা ব্যাপার আছে। আর আজকালকার ফাস্ট জীবনে সংযম নিয়ে অত মাতামাতিও নেই। চরিত্র গঠন, ব্রহ্মচর্য বিষয়গুলো আজ যেন সব কেতাবি শব্দ। অধিকাংশের মনের কথা-  জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা। তাই লাগে রহো। মিঞা, বিবি রাজি তো ক্যায়া করেগা কাজি? আরে বাবা, মন না দিতে পারি, তাই বলে কি …দেব না।

তবে এরই মাঝে কিছু মানুষ আছেন, যারা প্রেমের সঙ্গেই শরীরের সম্পর্কে বিশ্বাস করেন। তাদের মনে টান ধরলেই, শরীরে টান ধরে। শরীর কন্ডিশন্ড হয় মনের দ্বারা। কমিটমেন্ট তাদের কাছে বড় বিষয়। কিন্তু সে সংখ্যাটা বোধহয় আজকের দিনে খুব বেশি নয়। অধিকাংশের মত ভিন্ন। অনেককেই বলতে শুনেছি forbidden apple খেতেই বেশি আনন্দ। জীবজগতের আদি তাই ছিল কিনা। নিষিদ্ধ সম্পর্কেই বেশি আনন্দ। নিরানন্দও বটে। কারণ যত গোল… সব সেখান থেকেই শুরু হয়। তাদের কোনো কন্ডিশন নেই। খালি গিভ অ্যান্ট টেক। নাও আর দাও। বাকিটা ভুলে যাও!

গতানুগতিক জীবনে তাদের রোমাঞ্চের দরকার হয়। এককথায় অ্যাড্রেনালিন রাশ..। যেভাবে হিন্দি ছবিতে খুন আর ধর্ষণ দেখিয়ে টাকা তোলা হয় বাজার থেকে। ঠিকই সেই অ্যাড্রেনালিনকেই কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে কিছু সুপ্ত আনন্দমুহূর্ত ভোগ। ব্যাস ওই পর্যন্তই। খালি স্বাদটা একটু পালটে নেওয়া। তবে হ্যাঁ, ব্যালেন্সটা বোঝা খুব জরুরি। জীবনে ডালভাত আর বিরিয়ানির পার্থক্যটা বোঝা দরকার। অনেক সময় ওই বিরিয়ানি খেতে গিয়েই জেলের ভাত খেতে হয়। তখন আবার ঘরের ডালভাতও জোটে না। আর এটাকেই এক শ্রেণির প্রেমিক নিজেদের কবজায় নিয়ে নেন।

তবে যারা যাচ্ছেন, তাদের মনকে বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। শরীরের ইচ্ছে ও মনের ডিমান্ডের মধ্যে পার্থক্যটা চিরকাল ছিল। আজও আছে। আমরা পশ্চিমে দেখি। ওরা পূবে দেখে। আর সঠিক সুখশান্তি পেতে হলে? শুধু বেছে নিতে হবে সঠিক মানুষটিকে। যার সঙ্গে মানসিকতা ম্যাচ করবে। একটা আস্থার জায়গা তৈরি হবে।

আজকের ‘বিশ্বাসঘাতক’ দুনিয়ায় সাবধানের মার নেই। সুখের সময় কাটিয়ে কোনো রকম ব্ল্যাকমেল বা সেই ধরনের কোনো বিচ্ছিরি পরিস্থিতির মুখোমুখি যাতে না হতে হয়, তার জন্য প্রস্তুত থাকুন। একাধিক সঙ্গী থাকলেও সেই সাবধানতা বজায় রেখে চলুন।

নারী-পুরুষের মধ্যে যে স্রেফ বন্ধুত্ব থাকতে পারে না, প্রমাণ করে দেয় তাদেরই কিছু কীর্তিকলাপ। ‘উই আর জাস্ট ফ্রেন্ডস’ থেকে ‘ফ্রেন্ডস ফর বেনিফিট’- এ পরিণত হয় সেই বন্ধুত্ব। নেপথ্যে থাকে যৌনতা।

কোনো ব্যক্তিকে পছন্দ। কিন্তু সেই পছন্দকে একটা গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখতে চাইছেন। না হলে চারপাশের পৃথিবী আপনাকে ছি ছি করবে। হতে পারে সেই ব্যক্তি আপনার চেনা পরিচিত গণ্ডির কেউ বা এমন কেউ যার সঙ্গে আপনার দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 36 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ