বদনাম ঘোচাতে চায় ইসি

Print

%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%98%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%bfআগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ কমিশনের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ৯ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ, ঢাকা উত্তর, দণি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির ঘটনায় ইসির ভাবমর্যাদা ম্লান হয়। এ অবস্থায় বিদায়ের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করে বদনাম ঘুচাতে চায় ইসি।
ইউপি নির্বাচনের পর এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পর এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এ সিটিতে আগামী ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে বিগত ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসির অধীনে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছিল।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি ২০১২ সালে দায়িত্ব নেয়। এ কমিশনের অধীনে ২০১৩ সালে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন কিছুটা শান্তিপূর্ণ হলেও পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক জালিয়াতি হয়। ইসির এ ব্যর্থতার জন্য সর্বমহল থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ইসি। বিশেষ করে সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে সরকারদলীয় সমর্থকদের হাতে সারা দেশে কয়েক হাজার আহত এবং দুই শতাধিক লোক নিহত হওয়ায় ইসির ভাবমর্যাদা ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনী ব্যবস্থায় যে ধস নেমেছে তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে। বিদায়ের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এ দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে এসিড টেস্ট হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। দলটির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা এ নির্বাচনকে এসিড টেস্ট হিসেবে নিয়েছি। আমরা ইতঃপূর্বে দেখেছি এ সরকারের সময় কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি। আর এ নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন। নির্বাচন কমিশন ইতঃপূর্বে দেশ ও সারা বিশ্বে সমালোচিত হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের শেষ সময়। আমি মনে করি এ শেষ সময়ে নির্বাচন কমিশন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক বলেন, আমরা আশা করছি নাসিক নির্বাচন, জেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেভাবে করতে পারব। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আমরা প্রয়োজন মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকার অবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
এ দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। গত ১৪ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২৬ ও ২৭ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর। আপিল নিষ্পত্তির সময় ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৪ ডিসেম্বর। ৫ ডিসেম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৫১৪ জন। আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৮ জন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 55 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ