বাংলাদেশে ফার্মেসি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় হসপিটাল ফার্মাসিস্টের আবশ্যকতা

Print

14442590_313291555702727_1006312602_n
বাংলাদেশে ফার্মেসি শিক্ষার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ খোলার মধ্য দিয়ে শুরু।মরহুম শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমেদ এবং ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার দুজন শিক্ষাবিদ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ খোলা এবং এর কার্যক্রম শুরুর প্রধান অগ্রদূত ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ. জব্বার। বলা হয়ে থাকে তিনিই এ দেশে ফার্মেসি শিক্ষার জনক। ১৯৭০ সালে ফার্মেসি বিভাগে এম-ফার্ম কোর্স চালু হয়। ১৯৯৬ সালে ৩ বছরের বি-ফার্ম (অনার্স) কোর্সকে ৪ বছর মেয়াদি বি-ফার্ম অনার্স কোর্সে উন্নীত করা হয়। ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগকে বিলুপ্ত করে ফার্মেসি অনুষদকে কার্যকর করা হয় এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ে ফার্মেসি অনুষদের অধীনে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ চালু করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশে ফার্মেসি পেশা মূলত রোগীর ওষুধ সেবা ও ওষুধ-সংক্রান্ত পরামর্শকেন্দ্রিক। ফলে ওইসব দেশে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টরা প্রধানত হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। যারা পেশাজীবী ফার্মাসিস্ট হিসেবে সনদ পান তারাই মূলত হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসিতে প্র্যাকটিস করতে পারেন।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট ছাড়া কেউ ওষুধ ব্যবস্থাপনা করতে পারেন না। কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় ৯৫ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত। ১৯৭৬ সালে ফার্মেসি অধ্যাদেশ জারির বাংলাদেশে ফার্মেসি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফার্মেসি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।তবুও সরকারি হাসপাতালগুলোয় গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ হয়না। ফলে এ দেশে ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে মারা যাচ্ছে। যার কোনো হিসাবও দেশে নেই।
যদিও এ দেশের ফার্মেসী বিভাগ থেকে পাশ করে আমেরিকা,মধ্যপ্রাচ্চ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল, কমিউনিটি ফার্মেসি, গবেষণা কাজে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এদেশেও ফার্মাসিস্টরা করপোরেট হাসপাতাল যেমন— এ্যাপোলো, ইউনাইটেড, ল্যাবএইড, স্কয়ার ও বারডেম হসপিটালে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে কিছু সংখ্যক ফার্মাসিস্ট ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে কর্মরত আছেন। আমাদের ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটরা যাতে হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসিতে যোগদানের মাধ্যমে রোগ ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন সেজন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্ম ডি চালু করা অত্যন্ত জরুরী।ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান ও মধ্যপাচ্যসহ প্রায় সব দেশেই ফার্ম-ডি কোর্স চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ কেন এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে?

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ ফার্মাসিস্ট তৈরির জন্য ফার্মেসি শিক্ষার প্রসার এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের দ্বিতীয় ফার্মেসি বিভাগ চালু হয়। দেশে বর্তমানে ১২টি সরকারি ও ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ রয়েছে। বেসরকারি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ রয়েছে— সেগুলোর মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেবেলপমেন্ট অলটারনেটিভ,ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সাউদইস্ট ইউনিভার্সিটি , ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি,স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়,মানারত ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউএসটিসি, আইআইইউসি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, উল্লেখযোগ্য।বর্তমানে বাংলাদেশে বি-ফার্ম কোর্স ছাড়াও তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি কোর্স এবং ফার্মেসি সার্টিফিকেট কোর্স চালু রয়েছে।।

১৯৮২ সালে ড্রাগ কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স জারি করে এ দেশে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে ‘এ’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়।ফার্মাসিস্টদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে বিশ্বের বুকে ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ আজ ঝলমল করছে।এর কৃতীত্ব অবশ্যই আমাদের দক্ষ ফার্মাসিস্টদের।বর্তমানে প্রায় আট হাজার রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট আছেন,আরও তিন হাজার রেজিস্টার্ড হওয়ার অপেক্ষায়।

একমাত্র ফার্মাসিস্টরাই ওষুধ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ । তাই সুস্থ্য সমাজ গঠনে হসপিটাল ও কমিউনিটি ফার্মেসি অত্যন্ত আবশ্যক।ওষুধের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেক বৃহৎ হাসপাতালে ‘এ’গ্রেড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ প্রদান করা আবশ্যক। ।

তাই সকলের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে ফার্মাসিস্ট পদটিকে বাংলাদেশ ক্যাডার সার্ভিসভুক্ত (বিসিএস) করে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোয় এ গ্রেড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে মাননীয় প্রধামন্ত্রীর নিকট স্বাস্থ্যসেবার চুড়ান্ত উন্নয়নের স্বার্থে হসপিটাল ও কমিউনিটি ফার্মেসি চালুর আশা পোষণ করছি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 503 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ