বিএনপির দুই নেতার সঙ্গে আইভীর আঁতাতের অভিযোগ

Print

%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%8f%e0%a6%a8%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%86নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে গোপন আঁতাতের গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, এদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
জানা গেছে, দলের চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে বারবার প্রস্তাব পাওয়ার পরও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির এই দু’জন সাবেক সংসদ সদস্যের মেয়র পদে প্রার্থী না হওয়ায় এর নেপথ্য কারণ নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের ২টি নির্বাচনী এলাকায় (বন্দর, শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জ) তাদের নিজস্ব ভোট ব্যাংক থাকার পরও নানা অজুহাতে তারা মেয়র প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করায় শুরুতেই সন্দেহ দেখা দেয়।

অথচ তারা মেয়র পদে নির্বাচন না করলেও ছেলেদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নমিনেশন দিয়েছেন। ছেলেদের পক্ষে নিজেরা মাঠ চষে বেড়ালেও এই দু’জন সাবেক সংসদ সদস্য এখন পর্যন্ত বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে মাঠে নামেননি। দলের একটি অংশ দাবি করছে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে গোপন সমঝোতার কারণেই প্রার্থী হননি তারা। এদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন সম্পর্কে সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভগ্নিপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদিরের ঘনিষ্ঠ।
জানা গেছে, শহরের ২৩নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউছার আশা এবং সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাদরিল প্রার্থী হয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের ৭নং ওয়ার্ড থেকে।
আরও জানা যায়, ছেলেদের নির্বাচনী মাঠে এ দু’জন সাবেক সংসদ সদস্য যথারীতি ব্যস্ত সময় পার করলেও দলের মেয়র প্রার্থী নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গত কয়েকদিন ধরে সাবেক ওই দুই সংসদ সদস্যের এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও তাদের দেখা পাননি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে। বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করেই মাঠে নেমেছেন ওই দুই সাবেক সংসদ সদস্য।
আঁতাতের অংশ হিসেবে তারা দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে তাদের ছেলেদের জয় নিশ্চিত করবেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এজন্য তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে শুরুতেই নিষ্ক্রিয় থাকার নীতি গ্রহণ করেছেন।
সূত্র জানায়, প্রথমদিকে আবুল কালাম নিজেকে মেয়র পদে প্রার্থী করতে কেন্দ্রে লবিংও করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি অজানা কারণে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন, মূলত শহর ও বন্দরে রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সিদ্ধিরগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের বিশাল ভোটব্যাংক। তাদের মধ্যে দলীয়ভাবেও কোনো কোন্দল বা বিভেদ নেই। এদের যে কোনো একজন মেয়র প্রার্থী হলে বিএনপি প্রার্থীর জয় অনেকটাই সুনিশ্চিত ছিল।
তাই নির্বাচনে অনেক আগে থেকেই এই দু’জনের সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছিল। কেননা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জানতেন দলের তৃণমূল তার পক্ষে কাজ করবে না। ফলে এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন বিএনপির সিনিয়র এক নেতার ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি বন্ধু। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত এক খুনির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি ওই শিল্পপতির পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী।
গুঞ্জন রয়েছে, গত নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারকে বসিয়ে দিয়ে আইভীর জয় নিশ্চিত করার নেপথ্য নায়কও ছিলেন ওই শিল্পপতি। এমনিতে গত নির্বাচনে আইভীর আত্মীয় গিয়াস উদ্দিন দলের প্রার্থী তৈমুরের পক্ষে কাজ করেননি বলে শোনা যায়। ফলে গিয়াস উদ্দিন আগে থেকেই স্থির ছিলেন নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না। শুধু বাকি ছিল আবুল কালামকে রাজি করানো। সেই কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কারণেই সেলিনা হায়াৎ আইভী এখন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঐক্য প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে শামীম ওসমান ও সর্বশেষ তার পিতাকে নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
এদিকে নির্বাচনের হালহকিকত জানতে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নাসিক নির্বাচনের ব্যাপারে সার্বিক খোঁজখবর নেয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাদের নিয়ে তার গুলশান কার্যালয়ে একটি সভা করেন। ওই সভায় তৈমুর আলম খন্দকার, আবুল কালাম ও গিয়াসউদ্দিনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শহর বিএনপির উপদেষ্টা এমএ মজিদ বলেন, ‘ম্যাডাম তৈমুর, কালাম, গিয়াস এই তিনজনকে আপনি নাসিক নির্বাচন করতে বলছেন, কিন্তু তারা নির্বাচন না করে আপনাকে অসম্মান করছেন।
তারা বলছেন, পাঁচ কোটি টাকা লাগবে নির্বাচন করতে এবং তারা চাইছে এই টাকাটা আপনি তাদের দিন। এটা যদি আপনি দিতেন তাহলে তারা নির্বাচন করত। অথচ দল যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা অনেক সুবিধা নিয়েছে। অথচ এখন আপনার ডাকে মেয়র নির্বাচন করতে চায় না। আমাদের অনুরোধ, আগামীতে তাদের দল থেকে এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিতে চিন্তাও করবেন না। কেননা এখনও তারা সাখাওয়াতের পক্ষে নির্বাচনের মাঠে নামেনি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 128 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ