বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন সাখাওয়াত!

Print

bnp-narনারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনে এখনো কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। দফায় দফায় চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে চলে মেয়র প্রার্থী নির্ধারনে বৈঠক। অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকারের প্রার্থী হতে অনিহা প্রকাশ করায় দল প্রার্থী ঘোষণা করতে যেয়ে থেমে যেতে হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

তবে সকল উদ্বেগ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটবে সোমবার রাত ৯টার পরে গুলশানের কার্যালয়ে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দদের ফের বৈঠক শেষে ঘোষণা করা হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম।

নারায়ণগঞ্জ তৃণমূল বিএনপি চাচ্ছে শেষ পর্যন্ত যদি তৈমূর আলম খন্দকার প্রার্থী না হন তাহলে বিকল্পর হিসেবে হয় সাবেক এমপি অ্যাড. আবুল কালাম অথবা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে যেন দল মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দেন। তাদের দু’জনের একজনও দলের কাছে মেয়র পদে মনোনয়ন চাননি। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জের বিএনপির একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, যে দু’জন প্রার্থী হতে দলের কাছে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তাদের মধ্যে বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কৃতিত্ব স্বরূপ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেনকেই দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সোমবার রাতে দিবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বর্তমানে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশনের শেষ সময় এটা, তাই আমরা দেখতে চাই তারা তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে ফিরে আসে কিনা এবং সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের সমাপ্তিটা সুন্দর করতে পারে কিনা। সেই লক্ষে নাসিক নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। মেয়র প্রার্থীতা ঠিক না হলেও ইতোমধ্যে বিএনপি সর্মথিত কাউন্সিলর প্রার্থী ঠিক হয়ে গেছে। সোমবার রাত ৯টা মেয়রের পার্থী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তিনি আরো জানান, অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচন করতে আগ্রহ নন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি অ্যাড. আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন তারা দুজনেই আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এমূহুর্তে তারা মেয়র নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। তাই মেয়র মনোনয়নের শর্টলিস্টে এখন মাত্র আমরা দু’জন রয়েছি। তবে অতীত অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আমি আশা করি বেগম খালেদা জিয়া আমাকেই মনোনয়ন দিবেন।

কারণ হিসেবে অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সাত খুন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা সোচ্চার ছিলাম। আমরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এখন দেখার বিষয় সরকারি দলের প্রার্থী নির্বাচনী যেটুকু সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। আর আমরা বিএনপি প্রার্থীরা সেটুকু সুবিধা পাই কিনা? যদি পাই তাহলে আমরাই জয়লাভ করবো এবং সিটি মেয়রের পদ ছিনিয়ে এনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিব।

ধানের শীষ প্রত্যাশী মেয়র প্রার্থী অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের নাম থাকলেও দলের কাছে সাখাওয়াতে গ্রহণযোগ্যতা বেশি। গতবারের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকারকে নির্বাচনের আগের রাতে চেয়ারপার্সনের নির্দেশে সরে যেতে হয়েছে। এবারও তাকে মেয়র প্রার্থী হতে দল থেকে একাধিকবার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি সরাসরিতা প্রত্যাক্ষান করেন। যেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে গোসল ছাড়াই কোরবাণী হতে হয়েছিল, তার কারন অদ্যবধি জানতে পারি নাই। তাছাড়া এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেই আমরা ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জন করেছিলাম। একই কারণে আমি সিটি নির্বাচনে এবার প্রার্থী হব না। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবো।

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 44 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ