বিদেশের ‘আয়নাবাজি’তে চঞ্চলের পরিণতি টানা হয় ফাঁসির মধ্য দিয়ে

Print
নিজাম সাঈদ চৌধুরী চরিত্রে চঞ্চলগেল ৫৩ দিনে দেশের প্রেক্ষাগৃহে চঞ্চল চৌধুরীর যে পরিণতি দেখছেন, সেটাই কিন্তু শেষ নয়। দেশের সীমানা পেরিয়ে বদলে গেছে ছবিটির সেই হ্যাপি এন্ডিং!
‘ডিরেক্টরস কাট’ আইনে পরিচালক অমিতাভ রেজা বদলে দিয়েছেন ‘আয়নাবাজি’র শেষ দৃশ্যের ভেলকিবাজি। সেটিই জানা গেল সম্প্রতি। ছবিটির প্রধান চরিত্র শরাফত করিম আয়না। নির্দিষ্ট সময়ের পর মুক্তি পাবার শর্তে মোটা অংকের বিনিময়ে অন্যের হয়ে ছদ্দবেশে জেল খাটেন! এটাই তার মূল পেশা। যদিও তার ভাষ্যে, যে চরিত্রগুলো (জামিনযোগ্য আসামি) নিয়ে অভিনয়ের সুযোগ থাকে তিনি শুধু তাদের রূপ ধরেই বদলি খাটেন। এবং জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বরাবরই সফল অভিনেতার হাসি দিয়ে ছুটে যান নিজের গড়া বাচ্চাদের একটি অভিনয় শেখানোর স্কুলে।
ছবিটির শেষাংশে অবশ্য এমন ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটে। রাজনিতীবিদ নিজাম সাঈদ চৌধুরীর হয়ে বদলি খাটতে গিয়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত হন শরাফত করিম আয়না। ছবির শেষ প্রান্তে গিয়ে ফাঁসির অপেক্ষায় আয়নার করুণ-অসহায় সময় কাটে কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে। ছবির এই একটি মাত্র অংশে এসে দর্শকদের মনে বেদনার জন্ম দেয়। মায়া হয় অভিনেতা চঞ্চলের জন্য।
দর্শকদের সেই মায়াটাকে গুরত্ব দিয়েছেন ছবির পরিচালকও। দেখিয়েছেন, কনডেম সেল থেকে জেল খানার পুলিশের পোশাক পরে তিনি বেরিয়ে পড়েন কৌশলে। সাইকেলে চেপে আয়নার সেই মুক্তির স্বাদ বয়ে যায় দর্শক অন্তরেও। পরিচালক যেন ছবির শেষ দৃশ্যে আয়নাকে মুক্ত করে দর্শকদের মনের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটান।এরমধ্যে দেশ-বাজারে সুপারহিট হওয়া এমন গল্পের ছবিটি এখন ছুটছে বিশ্ব ভ্রমণে। যে ভ্রমণের সূচিতে রয়েছে বিভিন্ন নামকরা ফেস্টিভালে অংশগ্রহণ এবং প্রেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিক প্রদর্শন। এই বিশ্বভ্রমণ থেকেও দর্শক-সমালোচকদের সমান উচ্ছ্বাস মিলছে অমিতাভ-চঞ্চলদের পক্ষে। যদিও ছবিটির সমাপণী প্রসঙ্গে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ভেসে এসেছে স্বদেশে।
যে প্রতিক্রিয়ায় দর্শক মনে তৈরি করে শরাফত করিম আয়নার প্রতি নীল সমবেদনা অথবা দোটানা। সম্প্রতি অনেকেই জানিয়েছেন, বিদেশের ‘আয়নাবাজি’তে চঞ্চলের পরিণতি টানা হয় ফাঁসির মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ মুক্ত হয় না আয়না। অপেক্ষা করেন ফাঁসির জন্যই। মানে পরিচালক তাকে ফাঁসির জন্যই কনডেম সেলে আটকে রেখে ছবির ইতি টানেন বিদেশে।জেলখানার দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী
এ প্রসঙ্গে কথা হয় অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি  ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বলেন, ‌‘‘যেটা শুনেছেন সেটির সত্যতা আছে। তবে আংশিক। দেখুন সারা দুনিয়ার সিনেমাতে ‘ডিরেক্টরস কাট’ বলে একটা বিষয় থাকে। আমিও সেই নীতি ফলো করেছি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির যে বাণিজ্যিক প্রদর্শনী হচ্ছে- সেখানে আমি আয়নাকে মুক্ত করে দিয়েছি জেল থেকে। কারণ, তখন আমি দর্শকদের মনের কথা শুনেছি। আর ফেস্টিভালে যেটা করেছি, সেটা একান্তই আমার ফিলোসফি থেকে। তাছাড়া ফেস্টিভাল মানেই হলো ছবিটির দৈর্ঘ্য বেশ ছোট। ফলে অনেক কিছুই কাটতে হয়েছে।’’
তবে কি ‘আয়নাবাজি’র ডিরেক্টরস কাট-এ শরাফত করিম আয়না রূপে চঞ্চল চৌধুরীর ফাঁসি হয়ে যায়? উত্তরে অমিতাভ বলেন, ‘না। তার পরিণতি কী হয়- সেটা আমরা ক্লিয়ার করি না। তার ফাঁসির রায় হয়েছে। তিনি অসহায়ের মতো কনডেম সেলে অপেক্ষা করছেন। এখানেই শেষ। মানে একজন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি জেল থেকে হাসিমুখে পালানোর গল্প আমি সেখানে দেখাচ্ছি না। ফলে আয়নার শেষ পরণতি কী- সেটা স্পষ্ট নয়। দর্শক-সমালোচকরাই ভেবে নিক।’.আয়নাবাজির একটি দৃশ্যে নাবিলা ও চঞ্চল
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখায় প্রদর্শনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েটল সাউথ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে বেস্ট নেরেটিভ ফিল্ম উপাধি পায় ছবিটি। এরপর জার্মানির মানহায়েম-হাইডেব্যার্গ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর আমন্ত্রণ পেয়েছে ‘আয়নাবাজি’। এরপরই ছবিটি অংশ নিয়েছে ভারতের গোয়া রাজ্যে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ইন্ডিয়া’তে। শিগগিরই আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উৎসবে যাচ্ছে ছবিটি। এছাড়াও দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিক প্রদর্শন চলছে ছবিটির।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 145 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: