বিনামূল্যে ৪২ বছর ধরে কিডনি চিকিৎসা করছেন তিনি

Print
৪২ বছর ধরে বিনামূল্যে কিডনি চিকিৎসা করছেন তিনি

কিডনি রোগের চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশী। সাধারণত গরীব মানুষদের জন্য এ রোগের চিকিৎসা প্রায় সম্ভব নয়। যাদের জন্য কিডনি রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব নয় তাদেরকে বিনামূল্যে এ ব্যয়বহুল চিকিৎসা দিয়ে আসছেন পাকিস্তানের এক চিকিৎসক। তার নাম ডা. আবিদুল রিজভি।

৭৯ বছর বয়সী এ চিকিৎসক ৪২ বছরেরও বেশী সময় ধরে এভাবে বিনামূল্যে কিডনী রোগের চিকিৎসা করেন। এমনকি কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসাও তিনি করছেন বিনামূল্যে। এক্ষেত্রে মানুষের দান করা কিডনিই রোগীদের প্রতিস্থাপন করে দেয়া হচ্ছে।

সরকারের কাছ থেকে চিকিৎসা খরচের মাত্র ৩০ ভাগ অর্থ পেলেও জাকাত ও দানের মাধ্যমে পাওয়া অর্থে লাখ লাখ মানুষকে সেবা দিচ্ছেন তিনি।

পাকিস্তানের অনেক গরিব মানুষই কিডনি রোগে মৃত্যুর আগে শেষ ভরসা হিসেবে ডা. রিজভীর কাছে ছুটে আসেন। ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল সেবা বিনামূল্যে পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তারা।

অপ্রতুল সরকারি চিকিৎসা সেবার বিপরীতে ডা. রিজভীর সেবা জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায় করাচিতে তার প্রতিষ্ঠিত সিন্ধ ইন্সটিটিউট অব ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন (এসআইউইটি) হাসপাতাল প্রাঙ্গনে।

সেখানে দেখা যায় চিকিৎসার জন্য প্রচুর মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করছেন। সামর্থের অভাবে কিডনি রোগের চিকিৎসা করতে না পেরে প্রায় মৃত্যুর মুখে থাকা এসব মানুষ এসআইউইটিতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন।

ডা. রিজভী প্রতিদিন সকাল ৮টায় শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন। তবে এই চিকিৎসকের মাঝে ৪২ বছরেও ক্লান্তি ভর করেনি। বরং মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার স্বপ্ন সব সময় উজ্জীবিত রাখে তাকে।

১৯৭৪ সালে মাত্র আট শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা করে এসআইইউটি। চার দশকের সংগ্রামী যাত্রায় হাসপাতালটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। পাকিস্তান জুড়ে হাসপাতালটির ১০টি শাখা রয়েছে।

গত বছর এসআইইউটিতে কিডনী রোগীদের বিনামূল্যে দুই লাখ ৬০ হাজার বার ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। আর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তিনশ’টি।

ডা. রিজভীর আশা তার হাসপাতাল লাখো মানুষকে বিনামূল্যে প্রতিস্থাপন করে দেবে।

নিজের চিকিৎসা দর্শনের ব্যাপারে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের সরকারগুলোর পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে পুরোপুরি চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু সব মানুষেরই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার এবং মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে।

এসআইইউটির খরচের মধ্যে মাত্র ৩০ ভাগ সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেয়া হয়। এ অবস্থায় সব খরচ কিভাবে সামলাচ্ছেন ডা. রিজভী?

জানালেন, ব্রিটিশ জাতীয় স্বাস্থসেবা থেকে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে সবার কাছে গিয়ে তাদের চিকিৎসা কেন্দ্রের অংশীদার করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছেন।

তবে এসআইইউটিতে ধনী-গরিব সব রোগীকেই সম মর্যাদা দেয়া হয়। কারও ক্ষেত্রেই কোনও বৈষম্য করা হয় না।

ডা. রিজভী বলেন, সবাই একই খাবার খেতে দেয়া হয় এবং সবার জন্য একই ধরনের শয্যার ব্যবস্থা।

এছাড়া যে কেউ সেখানে দান করতে পারেন। এমনকি ১০০ টাকার দানকারীকেও সবচেয়ে সম্মানের চোখে দেখা হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 472 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ