বিপজ্জনক হয়ে উঠছে গ্যাস লাইনগুলো

Print

%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%89%e0%a6%a0%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%b2নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মনিটরিং আর সচেতনতার অভাবে গ্যাস লাইনগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। প্রায়ই ত্রুটিপূর্ণ এসব লাইন থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এখনো উদাসীন কর্তৃপক্ষ। শুধু কলকারখানাতেই নয় বাসা-বাড়িতেও গ্যাস লিকেজ হয়ে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।
রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, আজিমপুর, রামপুরা, কলাবাগান, চকবাজার, লালবাগ, ওয়ারী, ফতুল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিগত কয়েক বছরে গ্যাসের চুলা থেকে বড় ধরনের বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। গত দুই মাসের মধ্যে সাভারে দুটি কারখানায় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যায় ৩৫ জন। ঘটনার পর কয়েক দিন হৈচৈ হয়। সাময়িক টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উচ্চারিত হয়। কিন্তু এরপর সব কিছু থেমে যায়।
সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু রাজধানীতেই শতাধিক ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেকেই মারা গেছেন। দগ্ধদের মধ্যে বনানীতে ২০ জন, হাজারীবাগের গজমহলে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণে দগ্ধ হন ৩ জন, মিরপুরে টিনশেড বাড়িতে ৬ জন, আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টারে ৩ জন, কলাবাগান লেকসার্কাস রোডের এক বাসায় ৭ জন দগ্ধ হন। ওয়ারীতে ৩ জন, রামপুরায় ২ জন, চকবাজারে ৪ জন দগ্ধ হন। আর উত্তরায় একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ হন। ফতুল্লায় হন ৫ জন।
মঙ্গলবার রাজধানীর অদূরে সাভারে একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুইজন নিহত ও ১৯ জন গুরুতর আহত হন। ডিইপিজেডের ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তবে এ ধরনের কারখানার জন্য ফায়ার সার্ভিসের যে ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ তা নেয়নি বলে জানান তিনি।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর ট্যাম্পাকো কারখানায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। অর্ধশত ব্যক্তি দগ্ধ ও আহত হন। এ ঘটনাটিও গ্যাস লাইনের লিকেজের কারণে হয়েছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, দোলাইপাড়, জুরাইন, গেণ্ডারিয়া, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লাসহ রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কলকারখানা ও ঢালাই লোহা তৈরির কারখানা অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে চালানো হচ্ছে। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে এসব গ্যাস সংযোগ নেয়া হয়েছে। এসব কারখানার অনেকগুলো আবার আবাসিক এলাকাতেই গড়ে উঠেছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে।
তিতাস গ্যাস কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী সিবেন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, বাসাবাড়িতে গ্যাসের লাইন সংযোগ দেয়ার সময় পুরো বাড়ির চুলা পর্যন্ত ঠিক করে দেয়া হয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাস্তায় মাটির নিচের লাইন থেকে দুই পাইপের একটি গ্যাস চুলার দিকে আর একটি বাইরের দিকে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ বের করে দেয়ার জন্য। এই দুটি পাইপ পর্যন্ত আমরা তদারকি করি। তারপরও কোনো বাসা বাড়ি থেকে অভিযোগ করা হলে আমরা গিয়ে তা ঠিক করে দেই। কিন্তু যেসব দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে, তার অধিকাংশ ভিআইপি রান্নাঘর। যেগুলোতে জানালাগুলো এসি সিস্টেমের। ফলে সেখাতে বাতাস ঢুকতে পারে না। আর গ্যাস লিক থাকলেও তা বের না হয়ে রুমের ভেতরেই থাকে। ফলে সেখানে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেনেড বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি আরো জানান, ভূমিকম্পের মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে গ্যাস লাইনগুলো ভবনের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে বা ফেটে যাবে। এতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। দুর্ঘটনা রোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, এসব দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ কাজ করতে হবে। আমরা খুব শিগগিরই জনগণকে সচেতন করতে মাঠে নামব। তার পরও প্রতিটি বাড়ির মালিক ও বাড়ির বাসিন্দাদের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের সচেতন হতে হবে। অনেক সময় গ্যাসের চুলা ও লাইনে লিকেজ থাকে। সেগুলোর ব্যাপারে তাদের সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া, রান্নাঘরের বন্ধ জানালা খুলে রাখা ও ভালো চুলা ব্যবহার করতে হবে বলে জানান তিনি।
কয়েকটি ঘটনা: চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৮ নম্বর ভবনের সপ্তম তলায় গ্যাস লিক হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন ছেলের মধ্যে দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ মারা যান প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ।
গত বছরের ১৮ মার্চ রাজধানীর বনানী ২৩ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়িতে গ্যাস লাইন বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২০ জন দগ্ধ হন। আর এতে উড়ে যায় ভবনটির দরজা-জানালা।
এর আগে রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ সাতজন দগ্ধ হন।
২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর আজিমপুরে গ্যাসের চুলার পাশে মোবাইল চার্জ দেয়ার সময় বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান সিটি কলেজের ছাত্রী উম্মে সাদিয়া আতিক লামিয়া।
২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রথখোলার জয়তুননাথ বসাক লেনের ৯/১০ নম্বর বাসায় গ্যাসের পাইপ বিস্ফোরণে ছয়জন দগ্ধ হন।
এর আগে রাজধানীর আজিমপুরে গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী নিহত হন।
২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে গ্যাসের চুলা মেরামতের সময় বিস্ফোরণে মামা-ভাগিনাসহ তিনজন দগ্ধ হন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 53 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ