ভুয়া চাকরিদাতা থেকে সাবধান থাকুন

Print

ঢাকায় টাকা বাতাসে ওড়ে-এমন ভেবে প্রতিনিয়ত কিছু মানুষ এ মহানগরীতে প্রবেশ করছে। যার একটি অংশ পেশাবৃত্তির নামে লোক ঠকানোর পসরা সাজিয়ে বসেছে। নগরী হিসেবে ঢাকার পরিচিতি পুরনো। সেটা পরিবেশগত ও অবস্থানগত কারণে। সামাজিকভাবে আমরা এ শহরে খুব সহজেই একজন আরেকজনের দ্বারা অনাবৃত হচ্ছি। বর্তমানে অসাধারণ কর্তৃক সাধারণের হেনস্তার চিত্র এখানে প্রকট। আর এ অসাধারণের একটি শ্রেণি হলো ভুয়া চাকরিদাতা। যারা সমাজের বেকার সমস্যাকে সম্বল করে চলে। চাকরি দেওয়ার নামে বেকার মানুষদের কাছ থেকে টাকা নেয়। এ-ই তাদের পেশা।

14670068002

আধুনিক নগর কাঠামোতে কর্পোরেট ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। আর জন চাহিদার বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে কিছু ডেকোরেশন সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। রাস্তায় লাইটপোস্টে, বাসের ভেতরে, এমনকি পত্রিকায়ও চোখে পড়ে চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কপট বিজ্ঞাপন। পার্টটাইম/ ফুলটাইম চাকরি, জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি শিরোনামে বিজ্ঞাপনগুলো সহজেই বেকার শ্রেণিকে আকৃষ্ট করে। মূলত এ সকল প্রতিষ্ঠান চমকপ্রদ ফাঁদ তৈরি করে রাখে। যাদের মূল উদ্দেশ্যই থাকে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে নাম এন্ট্রির নামে ৫২০, ৮০০, ১৩২০ ইত্যাদি অঙ্কের টাকা পকেটস্থ বিজ্ঞাপনের নামে করা। গত পরশু রাস্তায় এমনই একটি বিজ্ঞাপন দেখে ফোন দিলাম। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হলো—মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে ফোন দিতে। অফিস সেখানে। আমি গেলাম এবং বাজারের সামনে দাঁড়িয়ে ফোন করলাম। অপরপ্রান্ত জানালেন আমাকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন, তবে আমি যেন ডানে বামে নড়াচড়া করি। আমি তার কথামতো তাই করলাম। আমার মনে হলো তিনি আমাকে ভেরিফাই করছেন। এক পর্যায়ে রাস্তার ঠিক বিপরীত পাশের একটি ভবনের উপরের দিকে আমাকে তাকাতে বললেন এবং তিনি হাত নাড়ছেন  বলে জানান। আমি দেখতে পাচ্ছি কি না জিজ্ঞেস করলে তাকে আশ্বস্ত করলাম, দেখতে পাচ্ছি। এরপর উঠে আসতে বললে ঢুকলাম অফিসে। সেখানে আরও অনেকেই বসে আছে। বোঝা গেল সবাই চাকরির জন্য এসেছেন। প্রথমে আমার কাছ থেকে এন্ট্রি বাবদ ৫২০ টাকা নেওয়া হলো এবং বলা হলো ইন্টারভিউ-এ টিকলে তবেই চাকরি হবে। ইন্টারভিউয়ে গেলাম। খুব সহজ প্রশ্ন করা হলো। বের হয়ে আসলাম। খানিকপর জানানো হলো, আমি নির্বাচিত হয়েছি। কাল থেকে অফিস করতে হবে। খুশি মনে বেরিয়ে আসলাম। ভাবলাম, চাকরি হয়ে গেল! পরদিন সকালে আমাকে জানানো হলো- গতকালই বলার কথা ছিল, আমি যেনো হাজার পাঁচেক টাকা নিয়ে আসি। কিসের টাকা জিজ্ঞেস করতেই বললেন- এতো বুঝতে হবে না আপনাকে, আপনি টাকা নিয়ে আসবেন। শুধু জেনে রাখুন, আপনার ভালোর জন্যই। আমার কোন্ ভালো যে করবেন তা আমার বোঝা হয়ে গেল। আমি আর যাইনি। এভাবেই এরা বিভিন্নভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

 

জনবহুল এ শহরে একটি বৃহত্ অংশ প্রতিনিয়ত চাকরির সন্ধানে ঘুরছে। আর চাকরির বদলে প্রতারণার শিকারও কম হচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে কর্মক্ষম ২৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বেকার। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ, নারী ১২ লাখ ৩০ হাজার। যা মোট শ্রমশক্তির সাড়ে ৪ শতাংশ। জরিপমতে, দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এ সকল চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরো নজর দেয়া প্রয়োজন। এদের অপপেশা রোধকল্পে মিডিয়া ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মিডিয়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজটি করতে পারে। পাশাপাশি পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশে কিছু নীতিমালা তথা ফিল্টার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পারে এদেরকে পুরোপুরি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে। অন্যদিকে চাকরি প্রত্যাশীদেরও সতর্ক হতে হবে। মনে রাখতে হবে, যেকোনো ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে নিজের সচেতনতার বিকল্প নেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 54 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ