ভেজাল খাদ্য বিক্রি করে বিখ্যাত চট্টগ্রামের ‘ক্যান্ডি’

Print

 

উন্নত পরিবেশে, খাবারের গুনগত মান রক্ষা করে খাবার পরিবেশন করলে সেই রেস্টুরেন্ট বা খাবারের দোকান সচরাচর বিখ্যাত হয়। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল খাদ্য পরিবেশন করে বিখ্যাত হওয়া যায় এমন নজির নেই। চট্টগ্রামের অভিজাত ও ব্যস্ততম এলাকা জিইসি’র মোড়ের ক্যান্ডি ফাস্টফুড সপটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল খাবার বিক্রি করেই এখন চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশ গত ৯ মাসে ক্যান্ডি নামের এই ফাস্টফুডের দোকানটি ভেজাল খাবার পরিবেশনের দায়ে ৩ দফা জরিমান আদায় করলেও টনক নড়েনি দোকান মালিকের। ক্রেতারাও অজানা আকর্ষনে এই দোকানে ভেজাল খাবার খেতে ভীড় করেন সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।

সরেজমিন নগরীর জিইসি মোরের ক্যান্ডি ফাস্টফুড শপে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে, চরম অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে এই দোকানে নানা খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আছিয়া খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থানীয়ভাবে বিখ্যাত এই ক্যান্ডি ফাস্টফুড শপে অভিযান চালায়। ম্যাজিট্রেট এবং সাথে থাকা বিএসটিআই কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষ করেন চরম অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে, বাসি ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে এই দোকানে। শত শত ক্রেতা ভীড় টেলে এই ভেজাল খাদ্যদ্রব্য কিনে খাচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত তাৎক্ষনিক বিশুদ্ধ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে জিইসি মোড়ে ক্যান্ডি স্ন্যাক্স ও কনফেকশনারি নামের এই ফাস্টফুড দোকানের মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেনে। এবং জরিমানার টাকা তাৎক্ষনিক আদায় করে ভবিষ্যতে ভেজাল খাদ্য পরিবেশন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

এদিকে ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে অভিযানের আগেও কথিত বিখ্যাত এই ক্যান্ডি ফাস্টফুডের দোকনে ৩ দফা অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। প্রতিটি অভিযানেই ক্যান্ডিকে সর্বনিম্ব ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হয়। এতোবার জরিমানা দেয়ার পরও ভেজাল খাদ্য পরিবেশন থেকে বিরত হয়নি এই ফাস্টফুডের দোকানটি।

দোকানের নাম প্রকাশে একজন কর্মচারী প্রতিনিধিকে জানান. এখানে অত্যন্ত নিম্মমানের পাম অয়েল, ডালডা, খোলা ময়দা, পঁচা ডিম দিয়েও খাবার তৈরি করা হয়। ক্যান্ডি নামটা চট্টগ্রামে বিখ্যাত হওয়ায় ক্রেতারা এই দোকানের খাবারের মান দেখে না। নাম দেখেই ভিড় টেলে খেতে আসে। প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে ক্যান্ডিতে খাবার খেতে আসা কয়েকজন ভোক্তার সাথে কথা বললে তারা জানান, এখানে খাবারের মান কেমন তা আমরা তেমন খেয়াল করিনা। নোংড়া এবং অস্বাস্থ্য পরিবেশে খাবার বিক্রি হওয়া এবং ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ভেজাল খাবার বিক্রির জন্য একাধিকবার জরিমানা প্রদানকারী দোকান হওয়া সত্ত্বেও এখানে কেন খাবার খান –এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেতারা জানান, সবাই এই দোকানের খাবার খেতে ভিড় করে তাই ভিড় দেখে আমরাও আসি।

রাজিব, ফাইজান, আনজুমসহ কয়েকজন জানান, চট্টগ্রামের ক্যান্ডি -ভেজাল খাবার বিক্রি করেই চট্টগ্রামের বিখ্যাত ফাস্টফুড শপ। নোংরা পরিবেশে ভেজাল খাবার খেতেই এখানে ভিড়।

এ ব্যাপারে দোকান মালিকের সাথে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। দোকারে ক্যাশ কাউন্টারে থাকা ম্যানেজার নিজের নামটুকুও প্রকাশ করতেও রাজি হননি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 43 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ