মাদকের আখড়া জেনেভা ক্যাম্প

Print

%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a7%9c%e0%a6%be-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aeআটকে পড়া অবাঙালিদের (বিহারি) আবাসস্থল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প ভয়ংকর সব মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিটি গলিতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক। বিচ্ছিন্ন আবাসনপল্লী হওয়ায় এখানে এলাকাবাসীর প্রভাব বা সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে ভেতরের চিত্রটা বরাবরই থেকে যায় অন্তরালে। ক্যাম্পের চারপাশে পুলিশসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকটি কার্যালয় থাকলেও তারা যেন দেখেও দেখে না। আর এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে জেনেভা ক্যাম্প থেকে ঢাকা শহরে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জেনেভা ক্যাম্পে ১০টি গ্রুপে প্রায় ৪০০ মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয়। তাদের দৌরাত্ম্যে অসহায় এখানকার প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা। প্রভাবশালী বলে সাধারণ লোকজন ভয়ে ওদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। আবার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় থানা পুলিশ, রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন মহলে টাকা ছড়িয়ে বিনা বাধায় অপকর্ম চালাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। কালের কণ্ঠ’র সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
মাদক ব্যবসায়ীরা এতটাই বেপরোয়া যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সেখানে অভিযান চালাতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর দুই দফা হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ নভেম্বর ডিএনসির কর্মকর্তারা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহায়তায় অভিযান চালাতে যান জেনেভা ক্যাম্পে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা অভিযানকারীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি চকলেট বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে ছয় মাদক বিক্রেতাকে ধরা হলেও সটকে পড়ে প্রধান কুশীলবরা।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার করা মাহবুব, খসরু, ওমর, মিরাজ, মজিবুর ও ফয়সালের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে শুধু মাহবুবের বাসা জেনেভা ক্যাম্পে। তার বড় ভাই ইশতিয়াক জেনেভা ক্যাম্পে ইয়াবার সবচেয়ে বড় ডিলার। বাকিরা ওই এলাকার মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্য।
এর আগে গত ২৪ জুলাই একই রকম অভিযান চালিয়ে জেনেভা ক্যাম্প থেকে এক হাজার ইয়াবাসহ ৯ জনকে আটক করে ডিএনসি। ওই অভিযানের সময়ও মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাম্প বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়েন কর্মকর্তারা। পরে শফি আলম নামে আরেক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয় এক হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবাসহ।
ডিএনসির পরিচালক (গোয়েন্দা ও অপারেশনস) সৈয়দ তৌফিক উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যাওয়ার পর মাদক বিক্রেতা ও তাদের সহযোগীরা অভিযান পরিচালনাকারীদের ওপর হামলা করে। দুইবারই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’ ডিএনসি সূত্র জানায়, এসব মাদক ব্যবসায়ীর নাম প্রশাসনের কাছেও আছে। তাদের আলামতসহ ধরতেই অভিযানে যায় ডিএনসির দল।
জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেছে, ক্যাম্পের ৪০ হাজার বাসিন্দার উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ মাদক ব্যবসায়ী। এরাই পুরো মোহাম্মদপুর এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক সরবরাহ করে, এমনকি ক্যাম্পের কিছু মেয়েও এই ব্যবসায় জড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ক্যাম্পে কমপক্ষে ১০টি মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা। ক্যাম্পের বাইরে পুলিশের গাড়ির টহল থাকলেও ভেতরে প্রকাশ্যে চলে মাদক বেচাকেনা।
ক্যাম্পের এক বাসিন্দা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কিছু লোক ক্যাম্পের পরিবেশ খারাপ করে ফেলছে। এখানে সবাই জানে কারা এসব করে। পুলিশও জানে। নাম বললে আমাদের সমস্যা হবে। আপনি নেতাদের কাছে জানতে চান। পুলিশের কাছে জানতে চান। তারাও মাসে মাসে টাকা পায়।’ আরেক যুবক বলেন, ‘যখন মাদক বিক্রি হয় পুলিশ তখন বাইরে থাকে। তারা ক্রেতাদের ধরে টাকা আদায় করে। কিন্তু আসল কারবারিদের ধরে না।’
অপকর্মে জড়িত যারা : জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসার হোতা মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। সে থাকে ক্যাম্পের বাইরে হেমায়েতপুরে। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড পঁচিশ ও চুয়া ওরফে চোরা সেলিম। ক্যাম্পে ইয়াবার প্রধান ডিলার ইশতিয়াক। ইয়াবা সরবরাহকারীদের অন্যতম হলো পাচু, তানভীর, পাপিয়া ও শামীমের স্ত্রী রানী। নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রধান শাহিনা আক্তার সাথী। তার গ্রুপে রয়েছে মোহাম্মদ পুল কসাইয়ের স্ত্রী সিমা, সুলতানের স্ত্রী নার্গিস, আসগরের স্ত্রী সয়রা, আলী নেওয়াজের স্ত্রী গান্নী, মৃত মনির বেগের মেয়ে কালী রানী, জামিলের স্ত্রী বেচনী, মোস্তাকিমের স্ত্রী সকিনা, মৃত সাকিলের স্ত্রী কুলসুম ও মহিউদ্দিনের মেয়ে রেশমা। গাঁজা বিক্রির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে শামীমের স্ত্রী রানী ও মুন্না। তরুণ গ্রুপের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ পুল কসাইয়ের ছেলে ফরিদ, আরিফ, আসিফ, আলী নেওয়াজের ছেলে সাগর ও সালমান, মৃত মনির বেগের ছেলে মুন্না। বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে পাখি, আসলাম, টেরু সেলিম বাবা, ছোট আরশাদ, মাসসা রাজু, সামসের, নাঈম, আরমান ও ছে মুণ্ডী; পাচু গ্রুপের পাচু, পাপিয়া, রাহি, জুম্মান, নুরা, ঢাকাইয়া নাদিম, নাসির, কালু, তেলী জাহিদ, সনু, টিপু তাহেরী; রাজিয়া গ্রুপের রাজিয়া ইভা, ফয়সল, কুরবান, ইমরান, মোন, ফরিদা, ছোট সাকিল, নবাব, ওয়াসিম, রানী, কুরবান, অপু, টিপু, মানিয়া, রানা, জাহিদ, জাবেদ ও বারেক। নিয়ন্ত্রক বা শেল্টার গ্রুপে আছে এস কে গোলাম রাব্বানী, সামদানী, নাসিম, মামুন, পটল মাহমুদ; শান্তি গ্রুপের শানু, আনোয়ার, রসুল, আজম, আন্ডে আলমগীর, নাঈম, আফতাব, নওশাদ, ইমরান, পাগলা আজাদ, কামরান, ইরশাদ, সনু, পেটলা জাবেদ, আরশাদ, মিঠু, জাহিদ, জাবেদ, পিয়ারু, আলাউদ্দিন, সাহাবুদ্দিন, মাসুম, রাজু, উল্টা সালাম, মানিক আরমান, সাব্বির, জনি, রানী, শারমিন, কাল্লু, কাজল, বশির, রাজু ও মাহতাব; শাহিদ গ্রুপের শাহিদ, আলমগীর, চুয়া সেলিম; ভুলু ও হাসেম গ্রুপের শামিম ভুলু, টিপু, সাব্বির ও জনি।
সরেজমিনে জেনেভা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, আপাতদৃষ্টিতে কোনো কাজ ছাড়াই প্রতিটি গলিতে দাঁড়িয়ে আছে এক শ্রেণির কিশোর ও যুবক। তবে একটু ভালোভাবে দৃষ্টি দিলেই ওদের উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রত্যেকে পলিথিনের মধ্যে রেখে প্রকাশ্যেই অন্যান্য পণ্যের মতো ইয়াবা বিক্রি করছে। তবে অপরিচিত কাউকে দেখলে তা লুকিয়ে রাখে। এই প্রতিবেদককে দেখে এক যুবক আগ্রহ নিয়ে বলে, ‘ভাইয়া, কিছু লাগবে? কার কাছে এসেছেন?’ একপর্যায়ে যুবকটি সেখান থেকে সটকে পড়ে। কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গলিতে দাঁড়ানো সবাই ইয়াবা আর গাঁজা বিক্রি করছে।
দেখা গেল, বাবর রোডের বি ব্লকে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন) ভবনের কাছে একটি পরিত্যক্ত এক তলা ভবনের সামনে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে। সাত নম্বর গলিতে ফেরি করে বিক্রি করছে কয়েক তরুণ।
সূত্র জানায়, এসব স্পট চালাচ্ছে শানুর সহযোগী পোপলা মুন্না, ভেজাল আসলাম, পিচ্চি ইমরান, কুলি শাহিদ, চোরা আকরাম, আসু, মুখবাঁকা রাজ ও ড্রাইভার সেলিম। কুমিল্লা থেকে চালান আনছে শহিদ, মনা ও কালা পাপ্পু। গত বছরের ২৩ নভেম্বর গাঁজা ও এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পোপলা মুন্নাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও সে একই অপকর্মে নেমেছে।
মাদকে বিরোধ-সংঘাত : ক্যাম্পের বিহারিদের সংগঠন স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) নেতাদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দারা জানায়, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পের নেতাদের রয়েছে নিজ নিজ বাহিনী। এখন শান্তি, নাছির, নাদিম ওরফে পঁচিশ ওরফে আজিম, আনোয়ার, উজ্জ্বল, সাঈদ, ইশতিয়াকসহ ৮-৯টি গ্রুপ রয়েছে; যারা সবাই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। আর আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াইয়ের শিকার হয় সাধারণ বাসিন্দারা।
সংগঠনটির সভাপতি আবদুল জব্বার খানের ছেলে শাহনেওয়াজ আহমদ খান ওরফে শানুর নেতৃত্বাধীন ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ী মিলে শান্তি কমিটি গঠন করেছে। তারা পুরো ক্যাম্প এলাকা অশান্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ জুন জেনেভা ক্যাম্পে দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেন, ক্যাম্পে মাদক বিক্রিই সংঘর্ষের মূল কারণ। আগে শান্তি গ্রুপ জেনেভা ক্যাম্প এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। নিজেদের দ্বন্দ্বে ওই গ্রুপ ভেঙে পরে নাছির ও আনোয়ারের পৃথক দুই গ্রুপ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যেই সংঘাত বেধে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, শান্তি কমিটির প্রধান শানু ও তার সহযোগী মোল্লা আনোয়ার জেনেভা ক্যাম্পের ভেতর পানি ও বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ক্যাম্পের ৭ নম্বর সেক্টরের ৪৫৭ নম্বর বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে শাহিন ও শানুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বেজি নাদিম আহত হয়। এ ঘটনায় নাদিম এবং তার ভাই বিচ্ছা ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্যাম্পে বোমা তৈরির কারখানা থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক তাজা বোমা। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর র্যাব-২-এর একটি দল ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ৩২টি বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে। ২০১৪ সালের ২ জুলাই আসাদ এভিনিউয়ে ৩৬/সি তিন তলা বাড়ি থেকে শানুকে থানা পুলিশ আটক করে। পরে সে জামিনে বেরিয়ে আসে।
জেনেভা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম জিলানীর বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায় ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। এই মাদকের কারবার করে তিনি এখন প্রচুর টাকার মালিক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম জিলানী বলেন, ‘এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় কে কী করে তার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। ক্যাম্পের ভেতরে কয়েকটি গ্রুপ মাদকের স্পট চালায়। এদের মধ্যে শান্তি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে আনোয়ার। সে ক্যাম্পের ভেতরে কয়েকটি স্পট চালায়। আনোয়ারের সাবেক সহযোগী বুলু কিছুদিন ধরে নিজেই ৭ নম্বর সেক্টরে একটি স্পট খুলেছে। এ নিয়ে ওদের মধ্যে বিরোধ, মারামারি।’
এসপিজিআরসির সভাপতি আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘জেনেভা ক্যাম্পে মাদকের আখড়া থাকার তথ্য আমাদের কাছে আছে। তবে সেখানকার একটি গোষ্ঠী উগ্রভাবে অভিযানে বাধা দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পুলিশের সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘ওই এলাকায় মাদক বিক্রি বন্ধ করতে প্রায়ই অভিযান করা হচ্ছে। অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 47 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ