মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সিলিকনযুক্ত ফ্রিজে সয়লাব বাজার

Print

প্রতারণার শিকার ক্রেতারা

110

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে নিন্মমানের ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে দেদার। চীন থেকে আমদানি করা নি¤œমানের এসব ফ্রিজে রয়েছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সিলিকন। বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। অজান্তেই তির শিকার হচ্ছেন তারা। আর এ সুযোগে কোটি কোটি টাকা লুফে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীসহ দেশের জেলা-উপজেলায় আমদানি করা বিভিন্ন নামে ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে। অনেক আমদানিকারক অধিক মুনাফার আশায় চীন থেকে অর্ডার দিয়ে ব্র্যান্ডের লোগো লাগিয়ে ফ্রিজ আমদানি করছেন। অথচ ক্রেতাকে ব্র্যান্ডের ফ্রিজের দামই দিতে হচ্ছে। এসব ফ্রিজ বিক্রি করতে লোভনীয় অফার আর চটকদার বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের ঠকাতে নি¤œমানের ফ্রিজ বিক্রি করছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন বলে। এসব ফ্রিজ ঠাণ্ডা হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নেয়। যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। আর্থিকভাবে তির শিকার হন ক্রেতা। কম্প্রেসারের গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি দিলেও বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যায় না। দিনের পর দিন ঘুরতে হয় বিক্রেতার কাছে। কারণ এসব ফ্রিজের বিক্রয়োত্তর সার্ভিস সেন্টার থাকে না। স্থানীয় কারিগরদের দ্বারা সারিয়ে দেয় মাত্র। আবার অনেক ফ্রিজ মাপেও সঠিক না। সিএফটি মাপের বা লিটারের হিসাবে ফ্রিজ বিক্রি করলেও ক্রেতার বোঝার উপায় নেই সঠিক পণ্যটি পাচ্ছেন কি না। এ ছাড়া অ্যান্ট্রিব্যাকটেরিয়াল টেকনোলজি না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবার জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এ থেকেও মানবদেহে নানা রোগের উৎসের সৃষ্টি হয়।
দেশীয় উদ্যোক্তারা জানান, এখন বাংলাদেশে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ফ্রিজ উৎপাদন হচ্ছে। মাইওয়ান, মার্সেল, মিনিস্টার, আর বি এবং যমুনা ইলেকট্রনিকসের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ফ্রিজ উৎপাদন করছে। হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশের স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠান কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ফ্রিজ রফতানির স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। অথচ এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দেশের বাজারকে ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত করতে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিলিকনযুক্ত ফ্রিজ আমদানি করছে। যাতে এক দিকে দেশীয় উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্য দিকে পরিবেশের মারাত্মক তির আশঙ্কা রয়েছে। দেশীয় শিল্পের স্বার্থে নি¤œমানের ফ্রিজ আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা অথবা ফ্রিজ আমদানির েেত্র বুয়েটের সনদ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তারা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে সিলিকনযুক্ত ফ্রিজ ব্যবহারের ফলে মানবদেহে মারাত্মক তিকর প্রভাব পড়তে পারে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিলিকনযুক্ত ফ্রিজের স্থায়িত্ব কম এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক তিকর। এসব ফ্রিজ কিনে ক্রেতারা এক দিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্য দিকে নিজের অজান্তেই প্রতারিত হচ্ছেন। ক্রেতাদের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিলিকনযুক্ত ফ্রিজ বাজারজাত করছে। চটকদার বিজ্ঞাপন আর লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের তি করছে।
জানা গেছে, সিলিকন শুধু মানবদেহের জন্য নয়। রাসায়নিক এ মৌলটি ফ্রিজের জন্যও তিকর। সিলিকন মিশ্রিত উপাদান দিয়ে তৈরি ফ্রিজ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কারণ সিলিকন ঠাণ্ডায় বৃদ্ধি লাভ করে। ধাতু ও অধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে ফ্রিজের নানাবিধ তি করে। ফলে ফ্রিজ ফুলে পানি লিক করে। মরিচা ধরে এবং গরম হয়ে যায়। যার ফলে ফ্রিজ থেকে উত্তাপ নির্গত হয়। স্থায়িত্ব হ্রাস পায়। এ ছাড়া সিলিকনযুক্ত ফ্রিজে খাবার মাছ-গোশত গন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফ্রিজে খাবার রাখাও অনিরাপদ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 92 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: