মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথায় কি করবেন ?

Print
মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা আমাদের দেশে একটা সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা এড়িয়ে চলা যায়। তবে বয়ঃসন্ধিতে মাসিক শুরু হওয়া থেকে মেনোপজ পর্যন্ত গড়ে প্রায় নব্বই শতাংশ মেয়ের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাব। প্রজননতন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষা অনেক জরুরি একটা বিষয় হলেও আমাদের সমাজে এ ব্যাপারে খোলাখুলি কথাবার্তা আজও নিষিদ্ধ, তাই অধিকাংশ মেয়েরাই ব্যাপারটিকে চেপে যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাবের উপযুক্ত চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন?
মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথার কারণ :-
প্রাকৃতিক কারনঃ  মাসিক হওয়ার সময়, জরায়ুর মাংসল দেওয়াল সংকুচিত ও প্রসারিত হয় যা দূষিত তরল ও রক্ত বের করে দেওয়ার জন্য শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এসময় জরায়ুর আবরণী কলার রক্তনালিকা মাঝে মাঝেই জরায়ুকে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তখন জরায়ু থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয় যা ব্যথা তৈরি করতে পারে। এটা স্বাভাবিক ব্যথা।
রোগ বা অসুস্থতাঃ কখনও কখনও ব্যথা হতে পারে আপনার মাঝে লুকিয়ে থাকা কোন রোগ থেকে। যেমন, এন্ডমেট্রিওসিস বা ওভারিয়ান সিস্ট থেকে। এছাড়াও, যদি সারভিক্স সরু থাকে বা ইনফেকশন থেকে থাকে তখনও ব্যথা হতে পারে।
লক্ষণসমূহ কি কি হতে পারে ?
তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথাই প্রধান লক্ষণ, এর সাথে বমি হওয়া, খাবারে অরুচি, শারীরিক অবসাদ, মাথা ঘোরানো, চোখে ঘোলা দেখা বা অন্ধকার দেখা, দুর্বলতা, হালকা জ্বর, মাথা ব্যথা এবং পাতলা পায়খানা আপনার জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। শুধু তাই নয়, খিটখিটে মেজাজ, রুক্ষ ব্যবহার, ধৈর্যহীনতা আপনার আশেপাশের মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসা :-
অনেকেই ব্যথার ওষুধ খেয়ে থাকেন কিন্তু আমি কখনই ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেবনা। কারণ ব্যথার ওষুধ খাওয়াটা কখনই স্থায়ী সমাধান নয়। বিষয়টি অনেক দিনের হয়ে থাকলে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা নিন। আশা করি ভালো হয়ে যাবেন।
প্রাথমিক / ঘরোয়া ভাবে কি করতে পারেন ?
  • কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবে। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে।
  • এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে- সিজ বাথ। ৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।
খাদ্যতালিকা :-
আপনার খাদ্যতালিকাটা কি খেয়াল করেছেন? এতে কি আপনার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকু আছে? আপনার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই থাকতে হবে, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। আপনাকে খেতে হবে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ই। এছাড়াও ভিটামিন বি ৩ বা নিয়াসিন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 75 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ