মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান

Print

%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে অবজারভেটরি ফর দ্য প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস ডিফ্রেন্ড (এফআইডিএইচ-ওএমসিটি) ও এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি)।
তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করতেও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দুই সংস্থা।
মানবাধিকার সংস্থা দু’টির এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সমপাদক মাহমুদুর রহমান আটক হন। এদিন পুলিশ দৈনিক আমার দেশের অফিসে অভিযান চালায় ও অফিসটি বন্ধ করে দেয়। এরপর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়।
সাড়ে ৩ বছরে, তার বিরুদ্ধে ৭৪টি আলাদা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত তাকে বারবার জামিন দিয়েছে। কিন্তু যখনই তিনি মুক্তি লাভের দ্বারপ্রান্তে থাকেন, তখনই পুলিশ নতুন একটি ফৌজদারি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক রাখে। ৩রা নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অবশেষে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সর্বশেষ মামলায় জামিনাদেশ বহাল রাখে। কিন্তু তাকে মুক্তি দিতে বিচার বিভাগ ও পুলিশ আরো ৩ সপ্তাহ সময় নেয়।
এফআইডিএইচ-এর প্রেসিডেন্ট দিমিত্রিস ক্রিস্টোপোলস বলেন, ‘স্রেফ নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণে ৩ বছরেরও বেশি সময় বিনা বিচারে আটক থাকার পর, মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি আমরা স্বাগত জানাই। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষাকর্মী ও সাংবাদিকদের এ ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জামিনে মুক্তি সত্ত্বেও মাহমুদুর রহমান এখনো ৭৪টি পৃথক ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, এসব মামলা সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু মামলায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন সব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে যা ঘটেছে তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন। তাকে কখন আদালতে এসব মামলায় বিচারের জন্য তলব করা হবে, তা জানা যায়নি।
এএইচআরসি’র প্রতিনিধি আশরাফুজ্জামান জামান বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো বিচারিক হয়রানির স্পষ্ট নমুনা। এগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমাদের দুই সংগঠন কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে।’
মুক্তির পর মাহমুদুর রহমানকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কারণ আটক থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে। ৬৪ বছর বয়সী মাহমুদুর রহমান বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়নি। ইউনাইটেড হাসপাতালের ডাক্তাররা তার শরীরে বেশকিছু সমস্যা খুঁজে পেয়েছেন যা আটক থাকা অবস্থায় তার প্রতি করা আচরণের দরুন ঘটেছে।
এগুলো হলো- উচ্চ রক্তচাপ, অপুষ্টি, মারাত্মক দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশনের কারণে মূত্রাধার সমস্যা, মারাত্মক পেটের সমস্যা, ব্যাকপেইন থেকে সৃষ্ট নিদ্রাহীনতা ও হাঁটুতে অসুবিধা। আরো স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য এখনো হাসপাতালে রয়েছেন তিনি।
ওএমসিটি’র মহাসচিব জেরাল্ড স্টাবেরক বলেন, ‘যে বিচারিক হয়রানির দরুন মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘায়িত বিনা বিচারে কারাভোগ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তার কড়া নিন্দা জানাই। আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে উপরোল্লিখিত ঘটনায় অবিলম্বে পুঙ্খানুপুঙ্খ,কার্যকরী ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদেরকে স্তব্ধ করার সপষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে অপরাধীকরণের চর্চা বন্ধের আহ্বান জানাই।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 38 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ