মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা,নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ছাত্রসেনা

Print

মিয়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যা,অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে  বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে

ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর

15215746_1174777335948812_1612241149_o
মিয়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যা,নারী ধর্ষণ,শিশুহত্যাসহ অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক জননেতা এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের অর্থ সম্পাদক এডভোকেট শাহীদ রিজভী,ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ছাত্রনেতা এম মনির হোসাইন,ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম মোস্তফা কামাল,ছাত্রসেনা সম্মিলিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা জোনের সভাপতি এবিএম আরাফাত মোল্লা,ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক সামিউল শুভ,সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আলী আকবর,অর্থ সম্পাদক এমএম কায়সার,মুগদা থানার সভাপতি নূর হোসেন তুষার সহ প্রমুখ। এই বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর সভাপতি শেখ ফরিদ মজুমদার।
এই বিক্ষোভ সমাবেশের প্রধান অতিথি ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জননেতা এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন,সবসময় শুনে এসেছি,বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ একটা কথা বলতেন “জীব হত্যা মহাপাপ।” কিন্তু আজ কোন অজুহাতে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা চলছে! এটাই কি ছিল তাদের ধর্মীয় শিক্ষা। তারা মুসলমানদের কে মানুষ তো দূরে থাক,প্রাণীও ভাবছে না। যেভাবে পারছে,আমাদের মুসলমান ভাইদের নৃশংস ভাবে হত্যা করছে,শিশুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে,মুসলিম নারীদের ইজ্জত নষ্ট করা হচ্ছে,তাদের বাড়িঘর লুন্ঠন করা হচ্ছে,আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এতো অমানবিক হত্যাযজ্ঞের পরেও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। নিরাপত্তার অজুহাতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তাদের পাশে দাড়াতে অপারগ। শুধু তিনি কেন,সারা বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ কোন কথা বলছেন না। অথচ সেখানে মুসলমানদের স্থলে অন্য ধর্মলম্বীর জনগোষ্ঠী হলে সমীকরণটা পাল্টে যেতো আর কথার ফুলঝুরি হতো,মানবতার দোহাই দিয়ে সাহায্যের অভাব হতোনা।
15225262_1174777572615455_1851636487_o 15182352_1174777802615432_1801605143_o
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের অর্থ সম্পাদক এডভোকেট শাহীদ রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন,মিয়ানমারের সামরিক গোষ্ঠীরা চেয়েছিল গোপনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাদের দেশ থেকে নিঃশেষ করে ফেলবে। কিন্তু তাদের অত্যাচার,নির্যাতন এতোটাই প্রকট ছিল যে,আরাকানের মজলুমদের আর্তনাদ আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গিয়েছে। গতকাল জাতিসংঘ রোহিঙ্গা ভাইবোনদের সাহায্যের জন্য বলতে বাধ্য হয়েছে। আমি বলতে চাই,যখন প্যারিসে হামলা হয়,তখন সারা বিশ্বে কান্নার রোল পড়ে,যখন হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর হামলা হয়,তখন সংখ্যালঘুর অজুহাতে সুশীল সমাজরা মানবতার দোহাই দিয়ে সোচ্চার হয়,আন্দোলন-মিছিল করে,আর যখন বিনা কারণে মিয়ানমারে মুসলমান হত্যাযজ্ঞ চলছে,তখন তাদের মুখ দিয়ে কথা বের হয়না। প্রকৃতপক্ষে তাদের নিকট মুসলমান জাতি যেন মানুষের পর্যায় পড়েনা! যখন বর্বর ইসরাঈলী বাহিনী নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের উপর হামলা করে,সিরিয়া-কাশ্মির সহ সারা বিশ্বে যখন মুসলিম হত্যযজ্ঞ চলে,তখন তারা যেন তালা দিয়ে থাকে। তাই আবারো বলবো,মানবতার স্বার্থে মিয়ানমারে চলা এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ বন্ধে এগিয়ে আসুন,জনমত গড়ে তুলুন।
ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ছাত্রনেতা এম মনির হোসাইন বলেন,প্রত্যেক ধর্মই শান্তির কথা বলে,মানবতার কথা বলে। কিন্তু মানবতা আজ বিপন্ন। শুধু মুসলমান হওয়ার কারণ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জায়গা হচ্ছেনা। সেখানে মুসলমানদের উপর চলা হত্যাযজ্ঞকে উগ্রতা বলা হচ্ছেনা,সন্ত্রাস বলা হচ্ছেনা অথচ ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের হাতে তৈরি আইএস,আল কায়েদার হামলা কারণে সারা বিশ্বে মুসলমানদের সন্ত্রাস হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে,জঙ্গি বলা হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে ইসলামের সাথে এই জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাসবাদের সাথে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই বরং এই জঙ্গিবাদ সহ সবধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করারা জন্য ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়,ভালবাসা ত্যাগের মাধ্যমে সবার সাথে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়,সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও নিরাপত্তার বিধান করার শিক্ষা দেয়,তারই প্রমাণ হিসেবে আমরা ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিনিয়ত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি এবং সাথে সাথে সারা বিশ্বে চলা মুসলিম হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাই বাংলার সব ধর্মের মানুষ,সকল শ্রেণির,সকল পেশার মানুষদের উদাত্ত আহ্বান করবো,আসুন মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা নির্যাতন বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই,জনমত গড়ে তুলি। সাথে সাথে মহামান্য রাষ্ট্রপতি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দ সহ জাতিসংঘ,আসিয়ান,সার্ক,ওআইসি কে বলবো,অন্তত মানবতার স্বার্থে এই হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করুন,সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসুন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 162 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ