মেঘ ছুঁয়ে দেখতে চলুন নীলগিরি

Print

বছর ঘুরে দেখতে দেখতে চলে এলো শীত মৌসুম। ভাবছেন, এবার শীতের ছুটিতে সপরিবারে কোথায় বেড়ানো যায়?

ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি নীলগিরি।আপনার মতো ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সবচে’ আদর্শ জায়গা হচ্ছে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র।যেন প্রকৃতির এক অনন্য দান। বান্দরবানের নীলগিরিতে সারাবছরই থাকে পর্যটকের আনাগোনা।তবে নীলগিরির আসল সৌন্দর্য  যদি দেখতে চান, শীতের এ মৌসুমেই যেতে হবে।আবার যাদের দার্জিলিং দেখা হয়নি তারা একবার নীলগিরি ঘুরে এলেই পেয়ে যাবেন দার্জিলিং দেখার স্বাদ।নীলগিরির কারণেই বান্দরবানকে বাংলাদেশের দার্জিলিং বলা হয়।

বান্দরবান জেলায় নীলগিরি পাহাড়চূড়ায়   জনপ্রিয় এ পর্যটন কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ফুট উচুতে অবস্থানের কারণে আকাশের মেঘগুলো পাহাড়ের একটু নিচে এসে মেঘের সাগর তৈরি করে। আপনি চাইলেই হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিতে পারেন এক গুচ্ছ শুভ্র মেঘ আবার কখনো কখনো মেঘগুলো আপনা হতে এসে ধরা দেবে আপনার কাছে। আসলে এখানে দিনরাত চলে পাহাড় আর মেঘের মিতালি। ঘরে বসে আকাশের দিকে চেয়ে মেঘের ছোটাছুটি আমরা অনেক দেখেছি, কিন্তু কখনো ভেবেছেন কি, এ মেঘগুচ্ছ আপনি চাইলেই হাত দিয়ে ধরতে পারবেন। তাই মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছা পূরণ করতে চাইলে যেতে হবে বান্দরবানের নীলগিরি। আর এটাই এ পর্যটনকেন্দ্রের বিশেষ আকর্ষণ।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে আপনাকে বাসে করে যেতে হবে বান্দরবান শহরে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি যায়। এর যেকোনো একটিতে চড়ে আপনি বান্দরবানে যেতে পারেন। কলাবাগান, সায়দাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে এসব বাস বান্দরবানে যায়। নন এসি এবং এসি দু’রকম বাসই পেয়ে যাবেন।

বান্দরবান সদর থেকে নীলগিরির দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার। বান্দরবান বাসস্ট্যান্ডের খুব কাছে হিলবার্ড নামের জায়গা থেকে আপনি নীলগিরি যেতে চাঁদের গাড়ি নামে এক ধরনের গাড়ি পাবেন। বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে এসব চাঁদের গাড়ির ভাড়া কমবেশি হয়ে থাকে। যেমন অফ সিজনে একটি চাঁদের গাড়ি ভাড়া করতে লাগতে পারে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। আবার ছুটির দিনে লাগতে পারে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। তবে শীতের মৌসুমে প্রচুর পর্যটকের ভিড় থাকে। তাই একটি চাঁদের গাড়ি ভাড়া করতে লাগতে পারে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। দালাল এড়িয়ে নিজে চাঁদের গাড়ির স্ট্যান্ডে গিয়ে দরদাম করে গাড়ি ভাড়া করাই ভালো। চাঁদের গাড়িতে চড়ে নীলগিরিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে ২ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। মনে রাখবেন, একটি চাঁদের গাড়িতে মোট ১৪ জনের বেশি বসা যাবে না। নীলগিরি যাবার পথে সেনা চেকপোস্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাধারণত বিকেল ৫ টার পর নীলগিরির উদ্দেশে কোন গাড়ি যেতে দেয়া হয় না।

নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র 

বান্দরবান শহর থেকে নীলগিরি পর্যন্ত পুরো রাস্তা পাহাড়ের ওপরে।কখনো উঁচু, কখনো নিচু, আবার কখনো বা আঁকাবাঁকা হয়ে পথ চলে গেছে নীলগিরি।বান্দরবানের এসব উঁচু-নিচু এবং আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র। নীলগিরি পর্যটকদের জন্য খুবই নিরাপদ জায়গা। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্প। ফলে এখানে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। আপনার যেকোন সমস্যায় সেনা সদস্যরা সহযোগিতার হাত বাড়াবে।

নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে আকাশ নীলা, মেঘদূত, নীলাতানা নামে ৩টি কটেজ। তবে কটেজগুলোতে থাকতে হলে পর্যটকদের গুণতে হবে ৪  থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর সেনাবাহিনী পরিচালিত নীলগিরি রেস্টুরেন্টেই সেরে নিতে পারেন খাবার পর্ব। তবে এসব কটেজ বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অফিসার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার রেফারেন্স লাগবে। কারণ, রেফারেন্স ছাড়া কোনো বুকিং নেয়ার নিময় নেই নীলগিরি রিসোর্টে।

নীলগিরির চূড়া থেকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং, প্রাকৃতিক আশ্চর্য বগালেক, কক্সবাজার সমুদ্র, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের আলো-আঁধারি বাতি এবং চোখ জুড়ানো পাহাড় সারিও দেখতে পাওয়া যায়। নীলগিরির সবচে’ মজার বিষয় হলো-এখান থেকে চোখে পড়ে বান্দরবানের ওপর দিয়ে বয়ে চলা সর্পিল সাঙ্গু নদী।মনে হবে সাঙ্গু নদী আপনার খুব কাছে। সাঙ্গু নদীর অপরূপ সৌন্দর্য এখান থেকে উপভোগ করা যায়। সাঙ্গুর বুক চিরে বয়ে চলা ছোট ছোট নৌকাগুলো দেখলে দূর থেকে মনে হবে স্বপ্নের কোনো ডিঙি বয়ে চলছে সাঙ্গু নদী দিয়ে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 98 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ