যেভাবে অন্ধকার জীবনে জড়িয়েছিল রংপুরের ৩ জঙ্গি

Print

%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a7%9c%e0%a6%bfনিষিদ্ধ জেএমবি জঙ্গি সংগঠনের তিন সদস্য হাফেজ মো. মাসুদ রানা (১৮), হাফিজুর রহমান (১৬) ও আক্তারুজ্জামান (১৮)। তিনজনই এই এলাকা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা। রংপুরের শীতল কমিউনিটি সেন্টারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে সদ্য কৈশোর পার করা এই তিন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলার লোহারবান এলাকার মন্দেল হোসেনের ছেলে হাফেজ মাসুদ রানা, একই উপজেলার বিন্যাগাড়ী এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান এবং ঘোড়াঘাট উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের সারওয়ার হোসেনের ছেলে আখতারুজ্জামান (১৮)।
আত্মসমর্পন করা তিন তরুণই গত রোজার ঈদের শোলাকিয়ার জামাতে হামলাকারী শফিউলের জঙ্গি অনুসারী। শফিউলের হাত ধরেই তারা জঙ্গি সংগঠনে জড়িয়ে পড়ে। জঙ্গি শফিউল রংপুর মহানগরীর নুরপুর সালাসিয়া ক্যাডেট মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। আত্মসমর্পণকারী ওই তিনজনও ওই মাদরাসার ছাত্র।
ইসলামের আলোকিত পথে চলার কথা বলে অনুপ্রাণিত করা হয়েছিল এই তিন তরুণকে। ইসলাম কায়েমের জন্য বিপ্লবের কথা বলে এদের তুলে দেয়া হয় অস্ত্র, ঠেলে দেয়া হয় অন্ধকার পথে।
নিজের বিপদগামী জীবনের কাহিনী তুলে ধরে জঙ্গি মাসুদ রানা জানান, সে রামেশ্বর দারুল হুদা ফাযিল মাদরাসায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার সহযোগী হাফিজুর রহমান কলাবাড়ি দাখিল মাদরসাার ১০ম শ্রেণির ছাত্র ও আখতারুজ্জামান নারায়ণপুর মেজবাহুল উলুম কওমী ও হাফিজিয়া মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। শোলাকিয়া হামলায় অংশগ্রহণকারী জঙ্গি শফিউলের মাধ্যমে জঙ্গি পথে পা বাড়ায়। তারা মাদরাসার পিয়ন আরিফুল দ্বারা রিক্রুট হয়। আরিফুল প্রাথমিক পর্যায়ে তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন অপব্যাখ্যা দিয়ে ব্রেইন ওয়াশ করে। এরপর শরীর চর্চা বিষয়ক প্রশিক্ষক শাহাবুদ্দিন এবং শফিউলের সঙ্গে চর এলাকায় প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। আরিফুল তাদেরকে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতো। অতিরিক্ত মাত্রায় দেখাশোনা এবং মুখরোচক গল্প বলে আকৃষ্ট করতো। ফলে তারা আরিফুলের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
মাসুদ রানা আরো জানায়, আরিফুলের তত্ত্বাবধানে মূল প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, জলসায় যাওয়া, উগ্রবাদী বিভিন্ন বই-পুস্তক অধ্যায়ন, বিভিন্ন অডিও ভিডিও লেকচারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষে ঘোড়াঘাটের গুড়াহাটির একটি মেসে থেকে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ, অনুশীলন, বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে শফিউল ও শাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে নুন্দারঘাটে নদীর চরে শারীরিক প্রশিক্ষণ দেয়। ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, বিধর্মীদের হত্যা করলে বেহেস্ত পাওয়া যাবে। এরপর তাদেরকে দেয়া হয় নাশকতার টার্গেট। এভাবেই জড়িয়ে পড়ে জঙ্গি সংগঠনে।
আত্মসমর্পনকারী অপর দুই জঙ্গি হাফিজুর রহমান ও আক্তারুজ্জামানকেও একই কায়দায় জঙ্গি সংগঠন জেএমবিতে যুক্ত করা হয়েছিল বলে তারা জানায়।
তিন জঙ্গি বোধদয় হয়, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর। ইসলাম কায়েমের নামে এতগুলো নিরপরাধ মানুষ হত্যার পর তাদের মনে প্রশ্নের উদয় হয়। দেশ ও বিদেশে সমালোচনার ঝড় দেখে তারা বুঝতে পারে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত দল নয় তারা অপরাধী দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর পরিণাম ভয়াবহ। মনের মধ্যে অনুতাপ ও অনুশোচনা আসে। ফলে আত্মগোপনে চলে যায়।
তিন জঙ্গিই জানায়, পত্রিকা ও টেলিভিশনে জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারণায় তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। সরকার ঘোষিত জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের আহ্বান তাদের ভুল পথ থেকে ফিরে আসার পথ তৈরি করে দেয়। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে এ বিষয়ে খোলাখুলি আলাপ করে আত্মসমর্পণে উদ্যোগ নেয় এবং র‌্যাবের কাছে আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আত্মসমর্পণকারী তিন জঙ্গিকে পুনর্বাসনের জন্য প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। পরে তাদের র‌্যাব-১৩ এর হেফাজতে নেয়া হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 63 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ