রবির বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

Print

রবির বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

বিডিলাইভ ডেস্ক: সম্প্রতি বেসরকারি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি’র  নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্র নিয়ে নেট দুনিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিজ্ঞাপনটিতে দেখানো হয়েছে, জাতীয় পতাকার ডিজাইনে টি-শার্ট দিয়ে কাজের বুয়া জানালার গ্রিল পরিষ্কার করছেন। আর এ বিষয়টি নিয়েই শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন সাকিব ফাহাদ। তরুণ অভিনেতা সালমান মুক্তাদির বিজ্ঞাপনটিতে অভিনয় করেছেন।

বিজ্ঞাপনটি নিয়ে অভিনেতা রওনক হাসান তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘জাতীয় পতাকা দিয়ে ঘরের জানালা পরিষ্কার করা যায় কিনা আমি জানি না। কিন্তু শিল্পীর দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে একটা কথা আছে। অনেকেই শিল্পীদের দিয়ে অনেক কিছু করিয়ে নিতে চাইবে কারন শিল্পীদের মানুষ ভালোবাসে। এখন দুই টাকার জন্য আমি আমার সম্মান, দেশের সম্মান, দেশ এবং নিজেকে বেঁচে দিচ্ছি কিনা এখানেই শিল্পীর বোধ। দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি তার দায়িত্বের পরীক্ষা। আমাকে কোটি টাকা দিলেও জাতীয় পতাকা দিয়ে আমি জানালা মুছতাম না। জানি ইতিহাস কাউকে মাফ করবে না। শিল্প সাধনার পথ অনেক কঠিন এবং দীর্ঘ।’

অন্যদিকে, নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, ‘জাতীয় পতাকা ব্যবহারের একটা নীতিমালা আছে। প্রাথমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় আমাদেরকে জাতীয় পতাকার মাপ পড়তে হয়েছে। সুতরাং ছোটবেলা থেকেই পতাকার গুরুত্ব আমাদের বুঝতে হয়েছে। এখন পাঠ্যসূচীতে তেমন কিছু আছে কিনা আমি নিশ্চিত নই। তবে জাতীয় পতাকা নিয়ে যা খুশি তাই যে করা যায় না এই বোধ আমাদের কমছে বোঝা যায়। আমরা কিছুই শিখছি না! কাজের বুয়ার শিক্ষা কম তাই জাতীয় পতাকা ওয়ালা ছেড়া টিশার্ট সে ময়লা মুছার কাজে ব্যবহার করছে এটা দিয়ে কি বুঝালেন আমি একটু জানতে চাই! এদেশের কাজের বুয়া, কৃষক, মুচি, মেথর সবাই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারা পতাকার মর্ম বোঝেন। বোঝেন না যাবতীয় শিক্ষার সুযোগ পাওয়া আপনারা, কারণ বিজ্ঞাপনের স্ক্রীপ্টটা কোন কাজের বুয়া শ্রেণীর মানুষ লেখেননি, আপনার বিশ্ববিদ্যালয় পড়া মাথা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে কফি খেতে খেতে লিখেছে। বেচাবিক্রী তো কম হলোনা, মাতৃভূমি কে একটু রেহাই দেন।

প্রবাসী সাব্বির চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কারা এইসব টিভিসি বানায়? দেশে কি কনসেপ্টের অভাব পরসে? যে যা তা লেভেল এর কিছু একটা বানায়ে দিবে কোন ধারণা ছাড়াই? এই রবি নাকি আবার আমাদের ন্যাশনাল ক্রিকেট টিমের প্রাউড স্পন্সর। আর যারা এইসব বুলশিটে এক্টিং করে তাদের কে কিছুই বলার নাই। টাকাই তো তোমাদের কাছে সব। জাতীয় পতাকার এরকম অবমাননা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’

তবে কেউ কেউ বিষয়টিকে একটু অন্য চোখে দেখার পরামর্শ দিয়েও স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাদের দাবি, এখানে রবি কৌশলে আদতে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্যই উৎসাহিত করেছে। তেমন সম্মান হানিকর কিছু হলে দেশের চ্যানেলগুলো তা প্রচার করতো না। কেননা, এসব সেনসেটিভ ইস্যুগুলোর জন্য প্রচারণার অনেক নীতিমালা রয়েছে। এভাবেই পক্ষ-বিপক্ষের বাহাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জমে উঠেছে।

এদিকে রবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট (কমিউনিকেশন এন্ড করপোরেশন রেসপনসিবিলিটি) ইকরাম কবীর বলেন, ‘প্রতিটি কাজেরই দুটি দিক থাকে। আমরা যখনই কোনো নতুন কাজ করতে যাই, তখনই প্রস্তুত থাকি আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার জন্য। তেমনি রবি’র নতুন বিজ্ঞাপনটি নিয়ে ফেসবুকে যেমন সমালোচনা হচ্ছে পাশাপাশি অনেকে এর থিমটি অনুধাবন করে প্রশংসাও করছেন।’

এই যখন ফেসবুকের অবস্থা তখন একজন সাধারণ মানুষের চোখেও এই বিজ্ঞাপনটি এখন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মেজবাহ রাসেল লিখেছেন ‘যে মানুষ এই TVC বানাইছে তারে পুরা HIT করে দিলো রবি তো আরো HIT. সাথে Salman Mohammad Muqtadir & Sabnam Parvin কেও। কেন ভাই এটাতে এমন কিছু ছিল না যে এটা নিয়ে এত মাতামাতি করা লাগবে সব কিছুর একটা limit ache, ছেঁড়া পুরনো টি শার্ট আপনিও ঘরে সাজিয়ে রাখেন না। হে এটা আমাদের দেশের পতাকার টি শার্ট তাই এই কাজটা করতে দে নাই বিজ্ঞাপনে তা দেখানো হয়েছে। সব দিক থেকে দেশের ১২টা বেজে যাচ্ছে আর একটা TVC তে আপনাদের দেশের সম্মান চলে যাচ্ছে, এত দুর্বল সম্মান যা একটা TVC তে শেষ হয়ে যাবে।

এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে কথা বলা হলো দু’জন বিজ্ঞাপন নির্মাতার সঙ্গে। তারা বললেন ভিন্ন কথা।

নির্মাতা ওয়াহিদ তারেক বললেন, বিজ্ঞাপনটি আমি দেখেছি আমারও মাথায় প্রথমে এই প্রশ্নটি এসেছে কিন্তু আমি বিজ্ঞাপনটির সম্পূর্ণ ভাবনা নিয়ে ভেবেছি। ভেবে দেখলাম আমি যদি ওই একটি দৃশ্য নিয়ে চিন্তা করি তাহলে ভালো ভুল হয়েছে কিন্তু আবার সম্পূর্ণ দেখলে ঠিক আছে। আসলে সব কিছুরই নেগেটিভ-পজেটিভ দুটি দিক রয়েছে। আমাদের পজেটিভ দিক ভাবলেই ভালো হয়। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় ইস্যু নিয়ে কাজ করলে একটু ভেবে-চিন্তে করা উচিৎ। কাল সবাই যে পজেটিভলি নিবে এমনটা ভাবা উচিৎ নয়’। আদনান আল রাজীব বলেন, ‘আসলে বিজ্ঞাপটির মূল থিম ছিলো লাকি টি-শার্ট। ছেলেটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী টি-শার্টটিকে অনেক লাকী মনে করে। সে জন্য সে ওই ভাবে বুয়ার কাছ থেকে টি-শার্টটি নিয়ে নেয়। ভালোবাসার জায়গা থেকে রেগে যায়। অন্যদিকে বুয়ার যে বিষয়টি দেখানো হয়েছে সেখানে আসলে বুঝানো হয়েছে যে একজন মানুষ শিক্ষিত নয় তার ওই সেন্স নেই যে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাটি আসলে কি কদর করা উচিৎ। কারণ পতাকাটি একটি টি-শার্ট ছিলো। এখানে আমাদের জাতীয় পতাকাকে বা জাতীয় সম্মানকে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হয়নি। আর যারা ভাবছেন তারা একবার বিজ্ঞাপনটির পুরো থিমটি নিয়ে ভেবে দেখুন।

অন্যদিকে, জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজার কাছে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন ‘আমি তো ওই বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করি নাই। তা হলে আমি কেন মন্তব্য দেবো। আর এখন আমার চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত আমি’।

আলোচনা সমালোচনা তো অনেক হলো কিন্তু আমরা কতজন জানি আমাদের জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নিয়ম। আসুন জেনে নেই আজকে।

জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নিয়ম
PEOPLE’S REPUBLIC OF BANGLADESH FLAG RULES, 1972 (Revised up to May, 2010) অনুযায়ী,

(১) সর্বদা পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করিতে হইবে।
(২) পতাকা দ্বারা মোটরযান, রেলগাড়ি অথবা নৌযানের খোল, সম্মুখভাগ অথবা পশ্চাদ্ভাগ কোন অবস্থাতেই আচ্ছাদিত করা যাইবে না।
(৩) যেক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের পতাকা অথবা রঙিন পতাকার সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য স্থান সংরক্ষিত থাকিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে কেবলমাত্র দুইটি পতাকা অথবা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ ভবনের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
(৫) যেক্ষেত্রে পতাকার সংখ্যা দুইয়ের অধিক হয়, সেক্ষেত্রে অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যখানে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
(৬) যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অন্য পতাকার সহিত আড়াআড়িভাবে কোন দণ্ডে দেয়ালের বিপরীতে উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকা অন্য পতাকার ডানদিকে আড়াআড়িভাবে থাকিবে (আড়াআড়িভাবে যুক্ত পতাকা দুইটির দিকে মুখ করিয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) এবং পতাকা দণ্ডটি অন্য পতাকা দণ্ডের সম্মুখভাগে স্থাপিত হইবে।
(৭) ‘বাংলাদেশের পতাকা’র উপরে অন্য কোন পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাইবে না।
(৮) ‘বাংলাদেশের পতাকা’ শোভাযাত্রার মধ্যভাগে বহন করা হইবে অথবা সৈন্য দলের অগ্রগমন পথে (Line of March) শোভাযাত্রার ডানদিকে বহন করা হইবে।
(৯) মর্যাদার প্রতীক সম্বলিত ঢালে (escutcheons) অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগে এবং সর্বোচ্চ কেন্দ্রে থাকিবে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ঢালের ডানদিকে শীর্ষে (ঢালের দিকে মুখ করিয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) বাংলাদেশের পতাকা স্থাপন করা হইবে।
(১০) যেক্ষেত্রে অন্য কোন দেশের সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ একত্রে উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ প্রথমে উত্তোলন করিতে হইবে এবং নামাইবার সময় সর্বশেষে নামাইতে হইবে।
(১১) যেক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক দেশের পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রতিটি পতাকা পৃথক পৃথক দণ্ডে উত্তোলন করা হইবে এবং পতাকাসমূহ প্রায় সমান আয়তনের হইবে।
(১২) যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অর্ধনমিত থাকে, সেক্ষেত্রে প্রথমে সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে এবং অতঃপর নামাইয়া অর্ধনমিত অবস্থায় আনা হইবে। ঐ দিবসে নামাইবার সময় পুনরায় উপরিভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে, অতঃপর নামাইতে হইবে।
(১৩) যেক্ষেত্রে দণ্ডের উপর ব্যতীত অন্যভাবে কোন দেয়ালের উপর ‘পতাকা’ প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে উহা দেয়ালের সমতলে প্রদর্শিত হইবে। কোন পাবলিক অডিটোরিয়াম বা সভায় ‘পতাকা’ প্রদর্শন করিতে হইলে উহা বক্তার পশ্চাতে উপরের দিকে প্রদর্শিত হইবে। যেক্ষেত্রে রাস্তার মধ্যখানে পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে উহা খাড়াভাবে প্রদর্শিত হইবে।
(১৪) কবরস্থানে ‘জাতীয় পতাকা’ নিচু করা যাইবে না বা ভূমি স্পর্শ করান যাইবে না।
(১৫) ‘পতাকা’ কোন ব্যক্তি বা জড় বস্ত্তর দিকে নিম্নমুখী করা যাইবে না।
(১৬) ‘পতাকা’ কখনই উহার নিচের কোন বস্ত্ত যেমন: মেঝে, পানি বা পণ্যদ্রব্য স্পর্শ করিবে না।
(১৭) ‘পতাকা’ কখনই আনুভূমিকভাবে বা সমতলে বহন করা যাইবে না, সর্বদাই । ঊর্ধ্বে এবং মুক্তভাবে থাকিবে।
(১৮) ‘বাংলাদেশের পতাকা’ কোন কিছুর আচ্ছাদন হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না, তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি যাঁহাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা বা পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাসহ সমাধিস্থ করা হয়, তাঁহার শবযানে পতাকা আচ্ছাদনের অনুমোদন প্রদান করা যাইতে পারে।
(১৯) ‘পতাকা’ এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন, ব্যবহার বা সংরক্ষণ করা যাইবে না, যাহাতে উহা সহজেই ছিঁড়িয়া যাইতে পারে বা যে কোনভাবে ময়লা বা নষ্ট হইতে পারে।
(২০) কোন কিছু গ্রহণ, ধারণ, বহন বা বিলি করিবার নিমিত্ত ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাইবে না।
(২১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আরোপিত কোন শর্তাবলী (যদি থাকে) এবং লিখিত অনুমোদন ব্যতীত, কোন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্বোধন, পেশা বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ‘পতাকা’ কোন ট্রেড মার্ক, ডিজাইন, শিরোনাম অথবা কোন প্যাটেন্ট হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না।
(২২) যেক্ষেত্রে ‘পতাকা’র অবস্থা এমন হয় যে, উহা আর ব্যবহার করা না যায়, সেক্ষেত্রে উহা মর্যাদা পূর্ণভাবে, বিশেষ করিয়া সমাধিস্থ করিয়া, নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(২৩) ‘পতাকা’ দ্রুততার সহিত উত্তোলন করিতে হইবে এবং সসম্মানে নামাইতে হইবে।
(২৪) ‘পতাকা’ উত্তোলন ও নামাইবার সময় এবং প্যারেড পরিক্রমণ ও পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সকলে ‘পতাকা’র দিকে মুখ করিয়া সোজা হইয়া দাঁড়াইবেন।
(২৫) যেক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পতাকা’ উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে একই সাথে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হইবে। যখন জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং ‘জাতীয় পতাকা’ প্রদর্শিত হয়, তখন উপস্থিত সকলে ‘পতাকা’র দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইবেন। ইউনিফর্ম-ধারীরা স্যালুট-রত থাকিবেন। ‘পতাকা’ প্রদর্শন না করা হইলে, উপস্থিত সকলে বাদ্য যন্ত্রের দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইবেন, ইউনিফর্ম-ধারীরা জাতীয় সঙ্গীতের শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত স্যালুট-রত থাকিবেন।
(২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ব্যতীত, ‘জাতীয় পতাকা’ অর্ধনমিত করা যাইবে না, তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান (যে দেশের নিকট তিনি আস্থাভাজন) ইচ্ছা করিলে ঐ সকল দিবসে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখিতে পারিবেন, যে সকল দিবসে উক্ত দেশে, সরকারীভাবে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখা হয়।

পতাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নির্দেশনাবলি রয়েছে আইনে,
(১) মোটর গাড়ী, নৌযান এবং উড়োজাহাজ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সূর্যোদয় হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ‘পতাকা’ উত্তোলিত থাকিবে, তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষ কারণে ভবনসমূহে রাত্রে ‘পতাকা’ উত্তোলিত রাখা যাইতে পারে, যেমন- সংসদের রাত্রের অধিবেশন চলাকালীন অথবা রাষ্ট্রপতি, অথবা মন্ত্রীগণের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়।
(২) যেক্ষেত্রে মোটর গাড়ীতে ‘পতাকা’ প্রদর্শন করা হয়, সেইক্ষেত্রে গাড়ীর চেসিস অথবা রেডিয়েটর ক্যাপের ক্ল্যাম্পের সহিত পতাকা দন্ড দৃঢ়ভাবে আটকাইতে হইবে।
(৩) ‘পতাকা’র উপর কোন কিছু লিপিবদ্ধ করা যাইবে না বা ছাপান যাইবে না। কোন অনুষ্ঠান বা অন্য কোন উপলক্ষে ‘পতাকা’র উপর কোন কিছু লিপিবদ্ধ করা যাইবে না।
(৪) উপরে বর্ণিত এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তিত উক্ত বিধিসমূহের অনুসরণ ব্যতীত, অন্য কোনভাবে ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাইবে না।
(৫) সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী কর্তৃক ‘পতাকা’র ব্যবহার এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিশেষ বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত হইবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 194 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ