রাজধানীতে ট্রাফিক নিয়ন্রন হয় হাতের মাধ্যমে

Print

 

হাতের ইশারায় দাঁড় করানো হয় গাড়ি

হাতের ইশারায় দাঁড় করানো হয় গাড়ি

রাজধানীর রূপসী বাংলা মোড়ের সড়কে সিগন্যাল বাতি, টাইম কাউন্টডাউন যন্ত্র সক্রিয়। ট্রাফিক সিগন্যালে লাল আলো জ্বলতে থাকলেও এগিয়ে চলেছে গাড়ির সারি। আর ফার্মগেটের দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো ডান হাতের ইশারায় দাঁড় করালেন ট্রাফিক পুলিশ নাজিম। এ সময় শাহবাগের দিক থেকে আসা যানবাহনকে হাতের ইশারায় যাওয়ার সংকেত দিচ্ছিলেন অপর ট্রাফিক পুলিশ।

 

এ দৃশ্য শুধু এ মোড়ে নয়। রাজধানীর বেশ কয়েকটি ট্রাফিক সিগন্যালে একই দৃশ্য চোখে পড়ে। কখনো দূর থেকে হাতের ইশারায় যানবাহন দাঁড় করানো হচ্ছে। কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনের সামনে গিয়ে দু-হাত প্রসারিত করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন ট্রাফিক পুলিশ।

 

রাজারবাগ মোড়ে কথা হয় ট্রাফিক পুলিশ এক সদস্য মোস্তাক হোসেনের সঙ্গে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সিগন্যাল বাতি যদি ঠিকমতো জ্বলত, তাহলে তাদের রাস্তায় দাঁড়ানো লাগত না। সে ক্ষেত্রে অটোমেটিক নিয়ন্ত্রণ হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ধুলোবালি, কালো ধোঁয়ার মধ্যে এভাবে ডিউটি করতে গিয়ে অনেকের শরীরে জটিল রোগ বাসা বেঁধেছে। চাকরি থেকে অবসরে গেলে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা দিয়ে চিকিৎসাই সম্ভব হবে না।

 

মোস্তাক হোসেন বলেন, সিগন্যাল বাতি যে জ্বলে না, তা নয়, কিন্তু তা দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হয় না। কেননা সিগন্যাল বাতি ইলেকট্রিকভাবে সচল নেই। এ কারণে হাতই এখন মূল ভরসা।

 

সরেজমিন শাহবাগ, মালিবাগ, শিক্ষা ভবন ও জিরো পয়েন্ট মোড়সহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লাল, হলুদ, সবুজ যে বাতিই জ্বলুক না কেন, হাত উঁচিয়ে সংকেত দিয়ে যানবাহন সামলাচ্ছিলেন ট্রাফিক পুলিশ। আর গাড়িচালকরা লক্ষ করছিলেন কখন চলাচলের সংকেত পাবেন।

 

পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে রাজধানীর রাস্তায় শুরু হওয়া স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির ট্রাফিক সিগন্যাল নির্মাণ প্রকল্প শেষ হয় ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে। পিক, অফ-পিক সময় বিবেচনা করে বিভিন্ন রাস্তার ট্রাফিক সিগন্যালের সময়সূচি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। ওই সময় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৯টি সড়কের মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। তবে দুই বছরের মাথায় সব সিগন্যাল বাতি অকার্যকর হয়ে পড়ে। বেশির ভাগ বাতিই বন্ধ। কোনো স্থানে জ্বলছে শুধু সবুজ-হলুদ বাতি।

 

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মোসলেম উদ্দিন আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, পরিকল্পিত নগরের তুলনায় ঢাকার রাস্তা অপ্রশস্ত। যানবাহনও অনেক বেশি। এ কারণে রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে পুলিশকে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের নির্দেশনা অনুসারে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু সমস্যা থাকলেও ক্রমান্বয়ে তা সেরে ওঠার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 53 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ