রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা : তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

Print

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পরোয়না প্রাপ্ত আরেক আসামি হলেন, একুশে (ইটিভি) টেলিভিশনের চাকরিচ্যুত সাংবাদিক মাহথির ফারুকী খান।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারি মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেলো কিনা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্য দুই আসামি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম কারাগারে আছেন। একই টেলিভিশনের চাকরিচ্যুত সাংবাদিক কনক সারোয়ার এ মামলায় জামিনে আছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক এমদাদুল হক বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম ও একুশে (ইটিভি) টেলিভিশনের চাকরিচ্যুত আরেক সাংবাদিক কনক সারোয়ারসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ১২৪-ক ধারাসহ পুলিশ ইনসাইটমেন্ট অফ ডিস এফেকশন এ্যাক্ট ১৯৯২ এর ৩ ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, গত বছরের ৪ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সভায় তারেক রহমান প্রায় ৫০ মিনিট ধরে বক্তব্য দেন। তাঁর এই দীর্ঘ বক্তব্য একুশে টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে। এই বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কটাক্ষকর বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়েও তিনি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন।

তাঁর ওই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য তিনি অপচেষ্টা চালিয়েছেন। যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ।

তারেক রহমান ঢাকা শহরকে অন্য জেলা থেকে এবং ঢাকার এক এলাকাকে অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য তার দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। ফলে বিএনপি জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের সমর্থকরা গত ৫ জানুয়ারি (২০১৫ সালের) দেশের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের মাধ্যমে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করার উস্কানি পায়। অন্য আসামিরা তারেকের দেয়া ওই বক্তব্য সরাসরি তাদের পরিচালনা ও মালিকানাধীন একুশে (ইটিভি) টেলিভিশনে সম্প্রচার করে রাষ্ট্রদ্রোাহিতার অপরাধ করেছেন। ত বছরের ৬ জানুয়ারি তারেক রহমান ও ইটিভির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুস সালামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তেজগাঁও থানার পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে গত বছরের ৮ জানুয়ারি তারেক রহমান ও আবদুস সালামসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানার এসআই বোরহানউদ্দিন রাষ্ট্রদ্রেহের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেন।

গত বছর ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩ টার দিকে ইটিভির কার্যালয় থেকে সালামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরেরদিন ক্যান্টনমেন্ট থানার পর্নোগ্রাফি আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রদ্রোহিতার এ মামলায় ১১ জানুয়ারি সালামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হলে রিমান্ড শেষে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 85 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ