রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র ( ২য় পর্ব )

Print

রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র।
[Retail and Hospital Pharmacy : The choice of the next generation Pharmacists]

14442590_313291555702727_1006312602_n-2

বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী মিলিয়ে মোট ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসী বিষয়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয় বা ফার্মেসী বিষয়টি পড়ানো হয়। সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ে বার্ষিক কোর্স পদ্ধতি আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টার ধরে হিসাব করলে প্রতি বছরপ্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার) ফার্মাসিস্ট পাশ করে বের হয়। এখনো পর্যন্ত ফার্মাসিস্টদের চাকুরির ক্ষেত্র শুধুমাত্র ওষুধ শিল্প কারখানা বিধায় গড়ে ২০০ (দুই শত) এর বেশি চাকুরির পদ সৃষ্টি হয় না। তাহলে এইসব নবীন ফার্মাসিস্ট কোথায় যাবেন? তাঁদের চাকুরির ক্ষেত্রকোথায়? নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর একটি বড় ক্ষেত্র হলো রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী যাহা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের জন্য হতে পারে আকর্ষণীয়, লোভনীয় ও পছন্দের কর্মক্ষেত্র।

রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী কী? এগুলি কিভাবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে হয়? ফার্মাসিস্ট কিভাবে সেখানে চিকিৎসা সেবা ও ফার্মেসী সেবা দান করবেন? রোগীর সাথে একজন ফার্মাসিস্ট কিরূপ আচরণ করবেন? কেমন স্থানে এগুলি স্থাপন করতেহয়? কি পরিমান মূলধন লাগে? আবার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে কিভাবে এগুলিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা যায় এইসব বিষয় এখানে আলোচনা করা হবে।

সেই অর্থে নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসমুহ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পর্ব আকারে এই লেখাটি হবে। আশা করি লেখাগুলি যাদের জন্য লেখা তাঁরা বিবেচনায় নিবেন এবং এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে জনসেবায়, মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ করে দিবেন।

পর্ব – ২
আসুন মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে ফার্মেসী শিক্ষা ও পেশার অবস্থানটা জেনে নেই এবং ফার্মাসিস্ট সমাজের প্রানের দাবীসমুহ সম্পর্কে অবগত হই।

 

স্বাস্থ্য বিজ্ঞান / চিকিৎসা বিজ্ঞান/ জীব বিজ্ঞানে ফার্মেসীর অবস্থান কোথায়?unnamed

আমরা যদি ফিজিওলজি, প্যাথলজি ও ফার্মাকোলজির আন্তঃসম্পর্ক (১ম চিত্র দেখুন) এর দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, ফার্মেসী হলো core subject . বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার জি এম পির গাইড লাইনে core subject হিসাবেফার্মেসীকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে –
PHARMACY is the study of an “appropriate combination” of –
(a) Chemistry (analytical or organic) or biochemistry
(b) Chemical engineering
(c) Microbiology
(d) Pharmaceutical sciences and technology
(e) Pharmacology and toxicology
(f) Physiology and other related sciences.

এখানে the study of an appropriate combination – এর কথা বলা হয়েছে।

আলাদা আলাদা ভাবে যে কেউ উপরোক্ত বিষয়ে লেখাপড়া করলে তিনি তাঁর নিজের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি হবেন, কিন্তু ফার্মাসিস্ট হবেন না।
ফার্মাসিস্ট হতে হলে উপরোক্ত বিষয়গুলির যথাযথ কম্বিনেশন বা সমন্বয় লাগবে। সেই কারনে ফার্মেসী একটি অনন্য বিষয় এবং পেশা হিসাবেও অনন্য। হেলথ সায়েন্স বা মেডিকেল সায়েন্স এর সঙ্গে এর তুলনা হয় না।

সেই জন্যই ওষুধ উৎপাদন থেকে শুরু করে রিটেইল ফার্মেসী বা হসপিটাল ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্ট থাকাটা অপরিহার্য।

 

স্বাস্থ্য সেবা / চিকিৎসা সেবা খাতে ফার্মাসিস্টদের অবস্থান কোথায়?unnamed-1

ফার্মাসিস্টগণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ (integral part of health care facilities)। ডায়াগ্রামের (২য় চিত্র দেখুন) দিকে তাকালে আমরা দেখি যে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টগণ অবিচ্ছেদ্য অংশ কিন্তুআমাদের দেশে বাস্তব অবস্থা পুরোপুরি ভিন্ন। স্বাস্থ্যসেবা টিম ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, নার্স ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিবিদ এই চার শ্রেণীর স্বাস্থ্য পেশাজীবী নিয়ে গঠিত হয়। আমাদের দেশে ফার্মাসিস্টদের অবস্থান কোথায়?

 

আশা করি আমাদের নীতি নির্ধারকগণ এই বিষয়গুলি সম্যক অনুধাবন করবেন এবং ফার্মাসিস্টদের কিছু দাবী সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা ও বাস্তবায়নের জন্য ভূমিকা রাখবেন।

 

স্বাস্থ্যসেবা খাত ও স্বাস্থ্যসেবা টিমে ফার্মাসিস্টদের অংশগ্রহন এবং ভূমিকা পালন নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের দাবীসমুহ বাস্তবায়নের জন্য ফার্মাসিস্টদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

 

বাংলাদেশের ফার্মাসিস্টদের দাবীগুলি নিম্ন রূপ –

(১) পদোন্নতির সুবিধা রেখে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) কর্তৃক ফার্মেসীকে “ক্যাডার বিষয় (Cadre Subject)” হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। পদের নাম হবে “ফার্মাসিউটিক্যাল অফিসার (Pharmaceutical Officer)”। এঁরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে”হসপিটাল ফার্মাসিস্ট (Hospital Pharmacist)” হিসাবে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ পাবেন।

(২) বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, যেমন – ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সেনাবাহিনী, ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসিস্টদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।

(৩) সারাদেশে হসপিটাল ও কমিউনিটি ফার্মেসী চালু করতে হবে এবং এসব ফার্মেসীতে ‘এ’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

(৪) ‘ড্রাগ ও থেরাপিউটিক কমিটি’ গঠন করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ফার্মাসিস্টদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

(৫) ফার্মেসী একটি পেশাগত বিষয় এবং ওষুধ মানুষের জীবন-মরনের সাথে জড়িত । তাই এই পেশা ও পেশাজীবীদের সন্মান রক্ষার্থে – যে সমস্ত ছাত্র ছাত্রী ফার্মেসী পড়তে ইচ্ছুক তাদের জন্য মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ একটি “কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা”অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ক্ষমতা বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল (PCB) কে দিতে হবে। সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ছাত্র ছাত্রীরা তাদের মেধাক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে ভর্তি হবে।

(৬) স্বাস্থ্যসেবা ও ফার্মেসীসেবা দানের সুযোগগুলিকে যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যসেবার সকল খাতে পেশাগত ডিগ্রীধারী ফার্মাসিস্টদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।

unnamed-2

ড. মোঃ শাহ এমরান
অধ্যাপক
ফার্মাসিউটিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগ,ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কো-অরডিনেটর,মলিকুলার ফার্মাকোলজি ও হারবাল ড্রাগ রিসার্চ ল্যাবোরেটরী
কনভেনার,“দ্যা ফার্মেসি গিল্ড অফ বাংলাদেশ (PGB)”।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 1063 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: