রীট (Writ) কাকে বলে এবং জেনে নিন রীট উৎপত্তির ইতিহাস ?

Print

রীট (Writ) কাকে বলে ?

রীট (Writ) শব্দের অর্থ হল আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত বিধান বা আদেশ। রীটের উৎপত্তি ও বিকাশ ইংল্যান্ডে। প্রথমে রীট ছিল রাজকীয় বিশেষাধিকার(royal prerogative)। রাজা বা রানী বিচারের নির্ধারক হিসাবে(fountain of justice) হিসাবে রীট জারী করতে পারত। একমাত্র রাজা বা রানীর রীট জারী করার অধিকার ছিল বলে একে প্রথমে বিশেষাধিকার রীট বলা হত।

পরমাদেশ বা হুকুমজারি রীট (Writ of mandamus) কাকে বলে ?

কোন অধঃস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তার আইনগত দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করে বা ব্যর্থ হয় তাহলে উচ্চতর আদালত যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত আইনগত দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করেন তাকে পরমাদেশ বা হুকুমজারি রীট বলে।

বন্দী প্রদর্শন রীট (Writ of habeas corpus) কাকে বলে ?

Habeas Corpus কথাটির অর্থ হলো “have his body” অর্থাৎ “to have the body before the court” যার অর্থ হল বন্দী ব্যক্তিকে সশরীরে আদালতে হাজির করা।
কোন ব্যক্তিকে সরকার বা অন্য কেউ আটক করলে কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানার জন্য বন্দীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট আটককারীকে যে আদেশ দিয়ে থাকেন তাকে বন্দী প্রদর্শন রীট বলে।

2016-24-7-18-14-49

রীট উৎপত্তির ইতিহাস ?

রাজা বা রানী তাদের কর্মচারী বা অফিসারদের কার্যবালি পালনে বাধ্য করার জন্য বা কোন অবৈধ কাজ হতে বিরত রাখার জন্য রীট জারী করতেন। পরবর্তিকালে রাজা বা রানীর এই বিশেষাধিকার নাগরিকদের অধিকারে চলে আসে। নাগরিকগণ সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণ ও কাজে ক্ষুদ্ধ হয়ে রাজার কাছে আসত এবং রাজা বা রানী তাদের বিশেষ অধিকার বলে রীট জারী করত। পরবর্তি কালে রাজা বা রানীর প্রতিনিধি হিসাবে ইংল্যান্ডে দুধরনের আদলত গটিত হয় যেমন, চ্যান্সারী আদালত (court of chancery) এবং কিংস বেঞ্চ (kings bench) এসব আদালত নাগরিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রীট জারী করত।

বাংলাদেশের সংবিধান হাইকোর্ট বিভাগকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে। সেটি হল রীট জারীর এখতিয়ার। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে তা বলবৎ করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগের এই এখতিয়ার কে রীট জারীর এখতিয়ার বলে। অর্থাৎ রীট শুধু মাত্র হাইকোর্ট বিভাগ জারী করতে পারে। কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত অধিকারবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য রীট পিটিশন দায়ের করতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য কতিপয় আদেশ নির্দেশ জারী করতে পারে, তাকে রীট বলে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 120 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ