রোহিঙ্গা নির্যাতনে ওআইসির নীরবতা: কী বলছেন দেশের শীর্ষ তিন আলেম

Print

%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%93%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%bfওআইসি ১৯৬৭ সালে গঠিত হয়েছিলো মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। এককথায় বলা যায় ওআইসি মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর। মুসলমানদের সুখে-দুখে পাশে থাকতে সংস্থাটি অঙ্গীকারাবদ্ধ। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ব্যাপারে সংস্থাটি এখনও নীরব। গত মাস থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস হামলা চলছে। সেখানে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই রাজ্যটিতে জঙ্গি নিধনের নামে নির্বিচারে হত্যা, নারী ও শিশুদের নির্যাতন এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটছে ব্যাপকহারে।গত দেড় মাস ধরে এই তাণ্ডব চললেও ওআইসি কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ তো দূরের ফর্মাল নিন্দা জানাতেও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।
ওআইসির এই নীরবতা নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন আলেমের সাথে কথা বলেছেন মোস্তফা ওয়াদুদ।
রাবেতা আলম আল ইসলামিয়ার বাংলাদেশী প্রধান আল্লামা সুলতান যওক নদভী বলেন, ওআইসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বিশ্বময় মুসলমানের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে তারা এমনটা করেও আসছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়েই মুসলমানরাই লাঞ্ছিত ও নিপীড়িত। এমন পরিস্থিতিতে ওআইসি তার নিয়মানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছে। এসব সংকট মোকাবেলার জন্য তারা সময়ে সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপও নিচ্ছে। যেমন কিছুদিন পূর্বে ভারত কর্তৃক কাশ্মীরের মুসলমানরা নির্যাতিত হলে ওআইসি হামলা বন্ধের আহবান জানিয়েছে।রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যাতন বিষয়ে ওআইসি এখনও প্রকাশ্যে কিছু না বললেও কূটনৈতিক তৎপরতা হয়তো চালু রেখেছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমার জানা নেই।
রোহিঙ্গাদের উপর নারকীয় তাণ্ডব বন্ধে ওআইসিকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, রোহিঙ্গারা মজলুম মুসলমান। তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন পাশবিকতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এই নারকীয় তাণ্ডব বন্ধে ওআইসির দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, মুসলমানরা নির্যাতিত হলে ব্যবস্থা নেয়া ওআইসির দায়িত্ব। বার্মায় নারকীয় তাণ্ডবের মাস পেরোলেও এ বিষয়ে তাদের নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রোহিঙ্গারা নিজ দেশে আশ্রয়হীন হয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এই বিষয়ে জানতে চাইলে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, মুসলমান হিসেবে রোহিঙ্গারা আমাদের ভাই। বিশ্বের যেখানেই কোনো মুসলমান নির্যাতিত হবে সেখানেই আমরা তাদের পক্ষে অবস্থান নিবো। এটাই হাদীসের ভাষ্য। তাই পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উচিত সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা।
ওআইসি ভেঙে মুসলিম জাতিসংঘ গড়া উচিত মন্তব্য করে মাওলানা মাসউদ বলেন, তারা তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গিকার পূর্ণ করতে পারছে না। বিশ্বময় মুসলিম অপশক্তির তেমন মোকাবেলা তাদের থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
তিনি বলেন, এ দাবিটি আমার একার নয়। গতকিছুদিন পূর্বে একটি পত্রিকায় দেখলাম। মুফতি ওয়াক্কাস সাহেবের বরাত দিয়ে লিখেছে, বর্তমান বিশ্বময় মুসলিম নিধনের মোকাবেলায় ওআইসির কার্যকারিতা না থাকায় ওআইসি ভেঙ্গে দিয়ে মুসলিম জাতিসংঘ গড়া উচিত।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 61 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ