লাইটার কারখানার মালিক-কর্মকর্তা লাপাত্তা

Print

%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%b0সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্যাসের লাইটার তৈরির কারখানার মালিক কিংবা কর্মকর্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার পর হতাহত শ্রমিক, এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা দেখতে আসেনি মালিকপক্ষের কেউ। তবে আজ বুধবার সকাল থেকে পুড়ে যাওয়া কারখানা দেখতে সেখানে ভিড় জমিয়েছে স্থানীয়রা।
তদন্তের স্বার্থে কারখানার প্রধান গেট বন্ধ রেখে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন) দিলীপ কুমারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি। তবে এখনো পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুই নিরূপণ করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, কারখানায় সিলিন্ডারে মজুদ করা গ্যাস থেকে গ্যাস লাইটার তৈরি করা হতো। এ ধরনের কারখানা স্থাপন করতে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। কিন্তু কারখানাটি এ ধরনের লাইসেন্স নেয়নি।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে আগুন লাগার পরপরই কারখানা কর্মকর্তারা গা-ঢাকা দিয়েছেন। মঞ্জুর-ই-ইলাহী (শামীম) নামের এক ব্যক্তি কারখানার মালিক বলে জানিয়েছেন সেখানকার নিরাপত্তাপ্রহরী মোকলেছুর রহমান। তবে তার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি তিনি।

জিরাবো শিল্প এলাকার ফুলবাড়ী মহল্লায় দুটি টিনসেড ভবনে ২০১২ সাল থেকে কারখানাটি চলমান ছিল। শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সেটি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি। স্থানীয়রা জানান, তিন শতাধিক শ্রমিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত ছিলেন। যাদের অধিকাংশের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে।
সাগর নামের কারখানার এক শ্রমিক বলেন, অল্টার রিপাইয়ার বিভাগ থেকে আগুনের উৎপত্তি। যে সব গ্যাস লাইটারে ত্রুটি থাকত, সেগুলো পুনরায় তৈরির জন্য এ বিভাগে পাঠানো হতো। বিকেলে হঠাৎ করে সেখান থেকে আগুন লাগে। আগুন গায়ে নিয়েই সেখানকার শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে যায়।
কুলসুম আক্তার নামের দগ্ধ শ্রমিকের স্বামী আলী আকবর বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে চেনার উপায় নেই। গোটা শরীর পুড়ে গেছে। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা বিল আর ছয় হাজার টাকার ওষুধ কিনে দিতে হবে। এত টাকা কোথায় পাব আমি। আমার স্ত্রী তো পেটের দায়ে কাজ করত।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, ঘটনার পর কারখানার মালিক এবং কর্মকর্তারা পলাতক রয়েছেন। কারখানার অফিস কক্ষ সার্চ করে তাদের সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সোমবার বিকেলে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় কালার ম্যাক্স বিডি লিমিটেড নামের কারখানায় আগুন লাগে। এতে ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে ২৬ শ্রমিক দগ্ধ হয়। সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা। এদের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আঁখি আখতার নামের এক শ্রমিক মারা যান।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 56 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ