‘লোক দেখানো আমল বিপদজনক’

Print

হযরত ওবাই ইবনে কাব (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি বলেছেন, এই উম্মতকে সম্মান, উন্নতি, সাহায্য এবং জমিনের বুকে বিজয়ের সুসংবাদ শুনিয়ে দাও। এসব পুরস্কার  তো এ উম্মত পাবে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে প্রত্যেকের হিসাব-নিকাশ তার নিয়ত অনুপাতে হবে। সুতরাং,  যে ব্যক্তি আখেরাতের কাজকে দুনিয়ার লাভের জন্য  করবে, আখেরাতে তার জন্য কোনো বিনিময় থাকবে না। (মুসনাদে আহমাদ)
36bee-taraweeh-prayers-in-a-mosque-during-ramadan-1431

এছাড়া ইসলামে কৃত্তিমতার প্রশ্রয় নেই মর্মে হজরত আবু সাইদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আমাদের নিকট আসলেন। তখন আমরা ‘মাসিহে দাজ্জাল’ সম্পর্কে আলোচনা করছি। তিনি বললেন, আমি তোমাদের এমন বিষয়ে বলে দিচ্ছি, যা তোমাদের জন্য দাজ্জাল থেকেও ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক মনে হচ্ছে? আমরা বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, শিরকে খফি-আল্লাহর সঙ্গে ছোট অংশীদারি করা। যেমন কোনো ব্যক্তি নামাজের জন্য দাঁড়ায় এবং নামাজকে এ জন্য সুন্দর করে পড়ে যে, অন্য কেউ তাকে নামাজ পড়তে দেখছে। (ইবনে মাজাহ)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা ‘জুব্বুল হাজান’  থেকে আশ্রয় চাও! ছাহাবায়ে  কেরাম (রা.) জিজ্ঞাস করলেন, ‘জুব্বুল হাজান’ কি জিনিস? নবীজি বললেন, জাহান্নামের একটি ময়দান। স্বয়ং জাহান্নামও প্রতিদিন এর থেকে একশবার আশ্রয় চায়। বলা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! ‘জুব্বুল হাজান’-এ কারা প্রবেশ করবে? নবীজি বললেন, এমন সব কুরআন পাঠকারী যারা লোক দেখানোর জন্য কৃত্তিমভাবে আমল করে। (তিরমিজি)

হজরত আবু সাইদ ইবনে আবি ফাজালা আনসারি (রা.) বলেন, আমি নবীজি (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা যখন কেয়ামাতের দিন সব লোকদের সমাবেত করবেন, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করেছে যা আল্লাহর সন্তুষ্টির বিপরীতে কাউকে খুশি করার জন্য কৃত্তিমভাবে করেছে, সে যেন তার লোক দেখানো বা কৃত্তিম আমলের সওয়াব  সেই অপরের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা শিরক লোক দেখানো বা কৃত্তিমতা মোটেও পছন্দ করেন না। (তিরমিজি)।

– See more at: http://www.tritiyamatra.com/news/26134#sthash.XRvfIdkb.dpuf

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 50 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ