শখের মড়া জলে ডোবে না!

Print

মাহবুব মিলন। জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ডাক্তার। বয়স আশি। শখের বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মরার মতো জলে ভেসে থাকতে পারেন। তাঁর ভেসে থাকা দেখে অনেকেই তাঁকে মৃত ভেবে বসে।
শখের মড়া জলে ডোবে না!

‘পুকুরে লাশ ভেসে উঠেছে’—এমন একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ল জিনজিরা এলাকায়। মাঝি, দোকানি, চা বিক্রেতা দোকান ফেলে দৌড়। হাজির হলো মহল্লার হাউলী মসজিদের পুকুরের চারপাশে। পুকুরকে ঘিরে শতাধিক মানুষের জটলা। কেউ বলছে, হাসপাতালে নেওয়া দরকার। আরেকজন বলছেন, বেঁচে থাকলে তো নড়াচড়া করত। লাশটা আসলে কার? ঠিক চেনা যাচ্ছে না। পাশ থেকে অনেকে মুঠোফোন বের করে ভিডিও ধারণ করছেন। ইতিমধ্যে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায়ও জানানো হয়েছে। হঠাৎ লাশটি নড়ে উঠল। ‘বেঁচে আছে’—পাশ থেকে বলে উঠল একজন। কথা শেষ হওয়ার আগেই সটান দাঁড়িয়ে গেল লাশ! সবার চোখ তো চড়কগাছ! কিভাবে সম্ভব? ‘আমি তো মরি নাই। পানির ওপর ভেসে থাকার প্র্যাকটিস করছিলাম।’ গায়ে সাবান ঘষতে ঘষতে জানালেন লোকটা। ভদ্রলোকের নাম মাহবুব মিলন। বয়স আশি। জন্ম জিনজিরায়। পেশায় দন্ত চিকিৎসক। তাঁর নেশা হলো, পানিতে ভেসে থাকা এবং এমনভাবে ভেসে থাকেন, দেখে বোঝার জো নেই বেঁচে আছেন কি মরে গেছেন। তিনি বললেন, ‘মানুষ যখন বলে আমি মরে ভেসে আছি, তখন খুব ভালো লাগে। মানুষকে ফাঁকি দেওয়াটা বেশ মজার।’

 

শুরুটা শখের বসে

পঁচিশ বছর আগের ঘটনা। টিভিতে দেখেছিলেন, রাশিয়ার ছোট্ট এক বাচ্চাকে পানির ওপর ভাসিয়ে দেওয়া হলো। বাচ্চাটা দীর্ঘক্ষণ ধরে ভেসে থাকল। এটা দেখার পরই তিনি ভেবেছিলেন ছোট্ট বাচ্চা পারলে আমি পারব না কেন! সেই থেকেই শুরু। বাড়ির পাশের ডোবা, নদী আর পুকুরে গোসল করতে গিয়ে নিজে নিজেই চেষ্টা করতেন। প্রথম প্রথম অল্পতেই নাকে-মুখে পানি ঢুকে যেত। পরে আস্তে আস্তে তাঁর দক্ষতা বেড়েছে। ছোটবেলায় তাঁর সঙ্গে সব সময়ই থাকতেন মেজ ছেলে মাহবুব জাকির। তিনি জানালেন, ‘ছোটবেলায় দেখেছি বাবা ভাসতে ভাসতে অনেক দূর চলে যেতেন।’ বড় ছেলে এইচ এস সেলিম জানালেন, ‘বাবা প্রায়ই শখের বসে পুকুরে ভেসে থাকেন। এটা উনার একটা নেশার মতো।’

তাঁর এই ঘটনা জানার পর পরই সবার মনে এই কৌতূহলটা জেগেছে, কিভাবে সম্ভব? আস্ত একটা মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে ভেসে থাকে কিভাবে? উত্তরটাও তিনি নিজেই দিয়েছেন, ‘পুকুরে নামার পর হাত-পা সটান করে রাখতে হবে। আর বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে বুকটা ফুলিয়ে রাখতে হবে। নিঃশ্বাস নিতে হবে আস্তে আস্তে।’

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা কী বলছেন

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন আসাদ জানালেন, ‘চাচার সঙ্গে আমিও একদিন গোসল করতে গিয়েছিলাম। খানিকক্ষণ পর দেখলাম পুকুরের চারপাশে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকে মনে করতেছে লোকটা মারা গেছে। যখন উঠে এলো তখন তো সবাই আশ্চর্য! সবাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করছিল, এটা কিভাবে পারেন?’ গ্রামের অনেকেই ভিডিওতে ধারণ করেছে তাঁর ভেসে থাকার দৃশ্য। মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। ফলে যারা সরসরি দেখেনি তারাও দেখার সুযোগ পাচ্ছে মোবাইলে।

তিনি চান, তাঁর মৃত্যুর পরও কেউ না কেউ এই কাজটা পারুক। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে শিখতে এসেছেন। কিন্তু বার কয়েক চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে আর চেষ্টা করেননি। তাঁর মতে, এটা পুরোদমে শিখতে চাইলে চর্চা করতে হবে নিয়মিত।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 213 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ