শামীম ওসমানকে নিয়ে ‘টেনশনে’ আ.লীগের

Print

%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%ae-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%b6নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে নিয়ে ‘টেনশনে’ আছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সিটি মেয়র পদে সেলিনা হায়াত আইভীকে দল মনোনয়ন দিলেও এ নিয়ে শামীমের তীব্র বিরোধিতা আওয়ামী লীগের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুজনকে ডেকে আইভীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সামনে আইভীর পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত কতোখানি করবেন শামীম, সে নিয়ে সংশয়ে আছেন অনেকেই। শামীম যদি আইভীর বিরোধিতা করেন, তাহলে নারায়নগঞ্জ সিটি মেয়রের পদটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করে দলের হাইকমান্ড।
মঙ্গলবার শামীম-আইভীর দ্বন্দ্ব মিটাতে শেখ হাসিনার ডাকা বৈঠকে আইভীর বিরুদ্ধে ‘বিস্তর’ অভিযোগ তুলে ধরেন শামীম। আইভীকে মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনী মাঠে নামানো অনেক কঠিক হবে বলে দলীয় প্রধানকে জানান শামীম ওসমান। এ সময় শেখ হাসিনা নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করে আনতে নির্দেশ দেন। শামীম ওসমানও প্রতিশ্রুতি দেন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওসমান পরিবার বড় একটা ‘ফ্যাক্টর’। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশই এ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। তারা যদি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে তাহলে বিরোধী পক্ষ এ সুবিধা নেবে ভোটের রাজনীতিতে। নারায়ণগঞ্জেও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তাই যে কোনোভাবে এ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করে আনতে চায় দলটি।
শামীম ওসমান ও আইভী মধ্যেকার দ্বন্দ্ব নিরসনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাছান নওফেলকে।
আ.লীগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, গতবার নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমান আইভীর কাছে পরাজয় বরণ করেছেন। সে থেকেই শামীম ও আইভীর দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। খুব সহজে এ দ্বন্দ্ব শামীম ভুলে যাবে না। মঙ্গলবারের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনি বারবার আইভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাই স্বাবাভিকভাবে শামীম ওসমানে নিয়ে চিন্তিত আমরা। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে, তাদের দুইজনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে কিভাবে একসঙ্গে নির্বাচনীয় মাঠে কাজ করা যায়।
প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও আ.লীগের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। আ.লীগ প্রার্থী ছিলেন আজমত উল্লাহ আর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। পরে দলের চাপের কারণে জাহাঙ্গীর নির্বাচন থেকে সরে গেলেও তিনি আজমত উল্লাহর পক্ষে করেননি। এ কারণে সেখানে বিএনপির কাছে পরাজয় হয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর। নারায়ণগঞ্জে যদি শামীম ওসমান আইভীর পক্ষে মাঠে না থাকে তাহলে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে মনে করছেন দলটির নেতারা।
আওয়ামী লীগের এক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাদের দুইজনের সঙ্গে বৈঠক করে সব দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। শামীম ওসমানও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। তাই আশা করি সবভুলে তিনি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে।”
তিনি আরো বলেন, “তবে এটা স্বীকার করতে হবে শামীম ওসমান বেঁকে বসলে সেটা আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার নিজের জন্য ভালো হবে না। কারণ শাশীম ওসমানের কোনো রকম বিশৃঙ্খলা দেখলে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবেন না।”
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জের প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজ দলের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন আইভি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। আর আইভি পেয়েছিলেন একলাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 62 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ