সবজি চাষে খরচ ৫ টাকা লাভ ১৫ টাকা !

Print

%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a6%b0%e0%a6%9a-%e0%a7%ab-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ad-%e0%a7%a7%e0%a7%abবগুড়ায় বর্তমান রবি মৌসুমে আগাম সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রতিদিন অন্তত কোটি টাকা মূল্যের সবজি বিক্রির জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। সবজির মধ্যে বাধাকপি চাষে প্রতি পিসে কৃষকদের খরচ পড়েছে ৫ টাকা। তারা এ কপি বাজারে বিক্রি করছেন ২০ টাকা দরে। সবজি বিক্রি করে তিনগুণ লাভ পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। নভেম্বরের শেষ থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত এ প্রকৃত মৌসুমেও ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদদফতরের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত অক্টোবরের প্রথম থেকে এ জেলায় রবি মৌসুমের আগাম সবজি চাষ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ফুলকপি, পাতা কপি, মুলা, পানি লাউ (ছাচি), মিষ্টি লাউ, সিম, শশাসহ বিভিন্ন সবজি কেনাবেচা চলছে। এ মৌসুমে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। আর ফলন প্রতি হেক্টরে ২২ মেট্রিক টন। বর্তমানে হেক্টর প্রতি ১৬ টন করে সবজি পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, আবহাওয়াসহ সবকিছু অনুকূলে থাকায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে।
বুধবার সকালে বগুড়ার শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে মহাস্থানে সর্ববৃহৎ সবজি হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সবজি কেনাবেচা চলছে। পাইকারি হিসাবে প্রতিমণ ফুলকপি ৯৫০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা, বাধাকপি প্রতি পিস ১৬ থেকে ২৫ টাকা, মুলা প্রতিমণ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ২২ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন প্রতিমণ ৮০০ থেকে হাজার টাকা, জলপাই প্রতিমণ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পানিয়া লাউ (ছাচি) ২৫ থেকে ৩০ টাকা পিস, ৩ কেজি ওজনের মিষ্টি লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে প্রতিমণ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, করোল্লা প্রতিমণ এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, কচুরলতি প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকা ও শশা এক হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার গাড়িদহ বাকসন্ধ্যা গ্রামের কৃষক শিবলু মিয়া জানান, তিনি তার প্রায় ৫ বিঘা জমিতে ৫ হাজার পিস ফুলকপি লাগিয়েছিলেন। প্রতি বিঘায় সবমিলিয়ে খরচ পড়ে ১৫ হাজার টাকা। আর তিনি ফুলকপি বিক্রি করবেন ৬০ হাজার টাকা। প্রায় তিনগুণ লাভ হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার খুব খুশি।
গাবতলী উপজেলার মিরপুর গ্রামের কৃষক সুজাউল জানান, তিনি এবার ৫০ শতক জমিতে সাড়ে ৬ হাজার পিস বাধাকপি লাগিয়েছিলেন। ফলন পাওয়া যাবে অন্তত সাড়ে ৫ হাজার পিস। প্রতিপিস কপিতে খরচ পড়েছে ৫ টাকা। আর তিনি বিক্রি করছেন ২০ টাকা পিস।
শিবগঞ্জের পারআঁচলাই গ্রামের কৃষক হাসনুর জানান, তিনি এ বছর ৩০ শতক জমিতে মুলা লাগিয়েছিলেন। প্রতিমণ মুলা বিক্রি করছেন, হাজার টাকা দরে। খরচ হয়েছিল ৪০০ টাকা।
শিবগঞ্জের ঘড়িয়া গ্রামের কৃষক আবদুল ওয়াহেদ জানান, তিনি এবার দেড় বিঘা জমিতে ৭ হাজার পিস ফুলকপি চাষ করেছিলেন। খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে ফলন হবে অন্তত ৬০ মণ। তার মোটা অঙ্কের লাভ থাকবে।
এছাড়াও হাটে আসা কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজার দর অনুসারে তারা অনেক লাভ করছেন। তবে কয়েকদিন পর অধিক পরিমাণে সবজি হাটে আসবে। তখন মূল্য কমে গেলে তাদের লোকসান হবার সম্ভবনা রয়েছে।
মহাস্থান হাটের অন্যতম বৃহৎ আড়তদার শামীমা ট্রেডার্সের মালিক নাগরকান্দি গ্রামের আবদুল জলিল জানান, এ হাটে অন্তত ৫০ জন আড়তদার কাচা শাকসবজি কিনে থাকেন। বর্তমানে প্রতিদিন ছোট বড় ৩০টি ট্রাকে সবজি রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে যাচ্ছে। প্রতি ট্রাকে গড়ে ২৫০ কেজি করে সবজি তোলা যায়। এ হিসেবে প্রতিদিন অন্তত কোটি টাকার সবজি কেনাবেচা হয়ে থাকে। কয়েকদিন পর সবজি পরিবহণের ট্রাকের সংখ্যা ৪০ এর উপর হবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, চলতি রবি মৌসুমে সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 71 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: