সাঁওতালদের কাঁচা ধানই কেটে নিতে তাগাদা

Print

%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%93%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%87-%e0%a6%95%e0%a7%87গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে রোপণ করা সাঁওতালদের ধান পাকার আগেই কাটার তাগিদ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হান্নান মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সাহেবগঞ্জ এলাকায় গিয়ে সাঁওতালদের এই তাগিদ দেন।
উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা রিনা মার্ডী জানান, চলতি মৌসুমে তারা সমিতির মাধ্যমে সাহেবগঞ্জ খামারের প্রায় ১৪০ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেন। কিন্তু ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ খামারের জায়গা থেকে উচ্ছেদের নামে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার দুই দিন পর ৮ নভেম্বর থেকে তাদের রোপণ করা ধানক্ষেতে কংক্রিটের খুঁটির সঙ্গে তারকাটার বেড়া দিয়ে ঘিরে নেয় রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার মাদারপুর সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দা র‌্যাফেল মার্ডী জানান, ১৪০ একর ধানক্ষেতের মধ্যে প্রায় ৪০ একর জমির ধান এখনো কাঁচা আছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধান কেটে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। জমির কাঁচা ধান পাকতে কমপক্ষে আরো ১৫ দিন সময় লাগবে। এই মুহূর্তে সব ধান কাটা হলে তাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে।
উপজেলার বড় জয়পুর গ্রামের ইলিয়াম টুডু জানান, এমনিতেই রংপুর চিনিকলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে ধানক্ষেতে। এ কারণে সঠিকভাবে ক্ষেতের পরিচর্যা করতে না পারায় ফসল ভাল হয়নি। তার ওপর কাঁচা ধান কাটা হলে তাদের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হান্নান জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে ধানকাটার জন্য সাঁওতালদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে তাদের ধানকাটার কথা ছিল। কিন্তু তারা ধান কেটে নেয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ধান কাটতে হবে।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আউয়াল জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাঁওতালরা ক্ষেত থেকে ধান না কাটলে চিনিকলের শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী জ্যেতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ধান কাটার কোনো নির্দেশনা দেননি হাইকোর্ট। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন নির্দেশনা দিতে পারেন না। ধান কাটা নির্ভর করে ধান পাকার উপর। ধান কাটার সময় বেধে দেননি আদালত।
তিনি আরও বলেন, ধান পাকলে সাঁওতালরা সেই ধান না কাটলে প্রশাসনকে নিজ উদ্যোগে ধান কেটে ক্ষতিগ্রস্তদের বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে আদালতের রায়ে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্রতী ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামের তিনটি সংগঠনের যৌথভাবে করা রিটের শুনানি শেষে ১৭ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে চিনি কল কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণ করা জমিতে লাগানো ধান সাঁওতালদের কাটতে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সাঁওতালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অবাধে চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়টি মামলা হয়েছে এবং আসামি কারা সে ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া পরবর্তী শুনানির জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
গত ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় রংপুর চিনিকলের জায়গা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চিনিকল শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্যামল হেমব্রম মারা যান। পরে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয় আরো কয়েকজন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 35 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ