হাইকোর্টের রায়ে খুশি সাঁওতালরা

Print

%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%81গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতালদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও তাদের ধান কাটার সুযোগ দেয়ার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ পেয়ে খুশি সাঁওতালরা।
চাষ করা জমির ধান নিজেরাই কাটতে পারবেন এমন খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের জয়পুরপাড়া ও মাদারপুর সাঁওতাল পল্লিতে আনন্দ বিরাজ করছে। এর ফলে নতুন চালের পিঠা তৈরি করে নবান্ন (সাঁওতালদের ভাষায় লবান) অনুষ্ঠান করে গির্জা ও মন্দিরে প্রার্থনা করতে পারবেন বলে আশাবাদি সাঁওতালরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানী শেষে রুলসহ এ আদেশ দেন।
রংপুর চিনিকলের আওতাধীন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে ১০০ একর জমিতে রোপা আমন ধানসহ প্রায় ৮০০ একর জমিতে মাস কালাই, সরিষা, পাটসহ অনান্য ফসল চাষ করেন সাঁওতালরা।
কিন্তু গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষের শ্রমিক-কর্মচারী পুলিশ নিয়ে দখল নেওয়া জমিতে আখ রোপন করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন।
এছাড়া সংঘর্ষে সাঁওতালদের ছোড়া তীরবিদ্ধ হয়ে ৯ পুলিশ আহত হন। পরে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাঁওতালদের কয়েকশ ঘর ভাঙচুর ও পোড়ানো হয়।
শুধু তাই নয়, পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাঁওতালদের চাষ করা বিভিন্ন ফসলও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তবে তাদের চাষ করা রোপা আমন ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি।
ঘটনার পর সাঁওতালরা এসব জমির আধা-পাকা ধান ঘরে তুলতে চান। কিন্তু এসব জমিতে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ কাটাতারের বেড়া দিয়ে চারপাশ ঘিরে নিজেদের দখলে নেয়। ফলে জমিতে ঢুকতে না পারায় জমির ধান নিয়ে চরম শঙ্কা ও উৎকণ্ঠায় ছিলেন উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁওতালদের চাষ করা এসব জমির রোপা আমন ধান আধা-পাকা হয়েছে। দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা সম্ভব না হলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন সাঁওতালরা। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর জয়পুরপাড়া ও মাদারপুর সাঁওতাল পল্লিতে আশ্রয় নেওয়া সাঁওতাল পরিবারের লোকজনের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
সাঁওতাল পল্লির মাদারপুরে আশ্রায় নেওয়া ইলিমা টুডু বলেন, জুলাই মাসের প্রথমে জমি দখলের পর তারা এসব জমিতে ধান, মাস কালাই, সরিষা ও পাট চাষ করেন। বর্তমানে এসব জমির ফসলের মধ্যে রোপা আমন কাটার সময় হয়েছে। কিন্তু জমি থেকে তাদের যখন উচ্ছেদ করা হয় তখন ধান ছাড়া সব ফসল লুট হয়ে গেছে।
পুলিশ ও চিনিকল কর্তৃপক্ষের ভয়ে ধান কাটা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। কিন্তু ধান কাটার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ায় তারা বেশ খুশি।
মিস্ত্রি মুরমু বলেন, তিনি জমিতে দুটি ঘর তোলার পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। পরে ঘরের পাশের প্রায় চার একর জমিতে রোপা ধান চাষ করেন। উচ্ছেদের সময় ঘর দুটি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে জমির ধান কাটার খবর শুনে এখন অনেক ভালো লাগছে।
বার্না মুরমু বলেন, এখন এসব ধান কেটে ঘরে তুলে নতুন চাউলের ভাত, পিঠা তৈরি করে ‘লবান’ অনুষ্ঠান করতে পারবো।
সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, উচ্ছেদের পর সাঁওতালরা এখন সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে জমিতে থাকা রোপা আমন ধান কেটে ঘরে তোলার সুযোগ দেওয়ায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। এসব পাকা ধান কেটে ঘরে তুললে সাঁওতালদের জীবন কিছুদিন হলেও চালিয়ে নেওয়া ভালো হবে।
এ বিষয়ে রংপুর চিনিকলের উপ-মহাব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের পর ধানসহ ফসলি জমি অক্ষত আছে। হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর সাঁওতালদের এসব জমির ধান কাটতে কোনো বাঁধা নেই।
বর্তমানে উচ্ছেদের পর সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া সাঁওতাল পল্লিতে আশ্রায় নিয়েছেন। তবে আশ্রায় নেওয়া দেড় শতাধিক পরিবার ঘটনার ১১ দিনে অতিবাহিত হলেও খোলা আকাশের নিচে ও পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে দিনাতিপাত করছেন। এরমধ্যে গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩৪ পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, আলু, তেল ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 59 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ