হার্ড লাইনে শেখ হাসিনা

Print

%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%96-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%beকঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছেন শেখ হাসিনাসাম্প্রতিক সময়ে নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি সংশ্লিষ্ট এমপিদের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ। শুধু তাই নয়, কোন নেতার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হচ্ছে সে ব্যাপারে তিনি বেশ সজাগ। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া তাদের জন্য খুব কঠিন হবে। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করেন না কেন, প্রতিনিয়ত দল এবং সরকারের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর গভীর মনিটরিংয়ে রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে ।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মানবকণ্ঠের এই প্রতিনিধিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছেন। অন্যায়ের ক্ষেত্রে তিনি আর কাউকে ছাড় দেবেন না। এমনকি আমার বেলায় যদি কোনো অন্যায় দেখেন, তাহলেও তিনি কোনো খাতির করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তা নিজেদের মধ্যকার কিছু কোন্দলকে দায়ী করলেন ওবায়দুল কাদের। তবে এই সুযোগে ঘাপটিমারা সুযোগসন্ধানীরা এই কাণ্ডটি ঘটাতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন। কাদের বলেন, কিন্তু তাই বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে আমাদের দলের লোকদেরও কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খুব কঠোর। প্রধানমন্ত্রীর কঠোরতা এখন যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক শক্ত মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি সব সময় খোঁজখবর রাখছেন। ওবায়দুল কাদের আরো জানান, এখন অন্যায় করে কেউ পার পেয়ে যাবেন, তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমে বোঝা যাচ্ছে না। এমনকি তার নির্দেশনা রয়েছে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এমন নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। সুতরাং আমি ইতিমধ্যে দলের নেতা-কর্মীদের সাবধানতা অবলম্বনের কথা জানিয়ে দিয়েছি।
১৫ নভেম্বর ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে আগামী নির্বাচনে কাকে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে না তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি উড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে বলেন, তিনি (ওই প্রতিবেদক) কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট করেছেন? বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে কাজের ভালো-মন্দ তো বিচার করা হবেই।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। এ প্রসঙ্গটি ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এটি নিয়ে এখনো দলে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখনো কিছু চিন্তাভাবনা করছেন না। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মন্ত্রিসভার রদবদল। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জন্য যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ থেকে তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দল ও সরকারকে সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, যার যোগ্যতা থাকবে প্রধানমন্ত্রী তাকেই মন্ত্রিসভায় রাখবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চাননি। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই ভালো জানেন কাকে দিয়ে কী চলবে। তবে তিনি আবারো বললেন, সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আগের চেয়ে আরো কঠোর হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈষৎ সাম্প্রদায়িক সংঘাত আওয়ামী লীগের মধ্যে বেশ কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের মনে করেন, উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। সেখানে উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। আর নাসিরনগরের ঘটনায় ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করি সাম্প্রদায়িক শান্তি বজায় থাকবে। গাইবান্ধায় ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালরা ত্রাণ ফেরত দিয়েছিল। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এবার ত্রাণ যাবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। নাসিরনগরের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই এখন নজরদারি করছেন। ইতিমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র দফতরে বার্তা পাঠিয়েছেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী চান কোনোভাবেই যেন বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক শান্তি নষ্ট না হয়।
প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগির আবারো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। সেখানে নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জ সম্পর্কে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। এছাড়াও প্রশাসনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর চিন্তাভাবনা চলছে। এক্ষেত্রে মুখ্য সচিবসহ বেশ কয়েক সচিবের রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বর্তমান মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদকে নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পদে বসানো হতে পারে। আর মুখ্য সচিব পদে আসীন হতে পারেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তবে অর্থ সচিবের নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর মতামতকে বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুটি বিভাগে বিভক্ত করে জ্বালানি সচিবকে একটি বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। প্রশাসনে যেন কোনো ধরনের অলসতা না আসে, আর নতুন গতিশীলতা যেন প্রধানমন্ত্রীর কাজের সহায়ক হয়, সে বিবেচনায় যতদূর সম্ভব কঠোর হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যখনই টেলিফোন করি তখনই প্রধানমন্ত্রীকে পাওয়া যায়। রাত দপুরে, কিংবা সাত সকালে। দীর্ঘ রাজনীতির পথ বেয়ে আসা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কৌতূহল, প্রধানমন্ত্রী ঘুমান কখন?

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ