হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল এখন বন্ধ হওয়ার পথে

Print


প্রিয় লেখক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের   স্বপ্নের  স্কুল এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের আশ্বাসের পরও এমপিওভুক্ত হয়নি প্রয়াত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’। গ্রামের সাধারণ মানুষেরর দাবি স্কুলটি এমপিওভুক্ত করার কথা থাকলেও এখনো এমপিওভুক্ত করা হয়নি। হুমায়ূন আহমেদ মারা যাবার পর অনেকে এসে বলে গিয়েছেন  স্কুলটি এমপিওভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। গ্রামের মানুষের দাবি স্কুলের পড়ালেখার মান অনেক ভালো।

স্কুলটি এমপিওভুক্ত  না হওয়ার কারনে স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন মেধাবী শিক্ষকরা। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কুলটির শিক্ষার মান ধরে রাখা ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৫৭ জন সবাই পাস করেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পান ১২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও লেখকের ওই স্বপ্নের স্কুলটি আজও এমপিওভুক্ত হয়নি।

রোববার হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন, লেখকের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রাম।

জানা গেছে, এলাকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষার কথা ভেবে  ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় সাড়ে তিন একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এ স্কুল।

একাত্তরের সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্কুলটির নাম রেখেছিলেন ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’। একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ সালে।

এই বিদ্যাপীঠে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ আছে। স্কুলের বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩২৮ জন। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৮ জন।

হুমায়ূন আহমেদের জীবদ্দশায় বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি নিজেই এর সম্পূর্ণ খরচ চালাতেন। তার মৃত্যুর পর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দেয়া হয়।

বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এ পর্যন্ত ২৭ জন শিক্ষক স্কুল ছেড়ে চলে গেছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন মেধাবী শিক্ষক স্কুল ছেড়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ধরে রাখা ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

হুমায়ূন আহমেদের চাচা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফুর রহমান আহমেদ (৮০) জানান, ‘হুমায়ূনের স্বপ্নের স্কুলটি এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশায় ভুগছেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরাও চাই স্কুলটি দ্রুত এমপিওভূক্ত হোক। আর তা যেন আমি জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারি। গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবি সরকারের কাছে স্কুল টি যেন এমপিওভুক্ত করে দেওয়া হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 53 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ