২০ তলা আবাসিক ভবন পাচ্ছেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা

Print

%e0%a7%a8%e0%a7%a6-%e0%a6%a4%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%a8২০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন (জাজেস কমপ্লেক্স) পাচ্ছেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই ৭৬ জন বিচারপতি সপরিবারে উঠতে পারছেন ওয়াইফাইসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত নবনির্মিত ভবনটিতে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সম্বলিত কমপ্লেক্সের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তে চলছে বিদ্যুৎ ও চুনকাম। এরপর ভবনটি হস্তান্তর করবে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের নিকট। রাজধানীর কাকরাইলের সার্কিট হাউজ রোডস্থ সুউচ্চ ভবনটি আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী বিচারপতি উদ্বোধন করবেন। এরপর বিচারপতিরা একই ছাদের নিচে বসবাস করার সুযোগ পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্র্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিচারিক সেবার মান উন্নয়নে এবং বিচার বিভাগকে আধুনিকায়নের মহাপরিকল্পনা নেন। তার ফলশ্রুতিতে এসব কাজ হচ্ছে। আশা করছি ডিসেম্বরে শেষদিকে ভবনটিতে বিচারপতিরা উঠতে পারবেন। এখন বিভিন্ন স্থানে বিচারপতিদের থাকতে হয়। এতে তাদের কোর্টে আসা-যাওয়ায় অনেক সময়ই ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি ভবনে থাকলে অনেক সময় অনেক বেঁচে যাবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সুনিশ্চিত হবে। এদিকে বিচারপতিদের আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তাদের মতে, এতে করে বিচারিক সেবার মান উন্নয়ন হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।
গত রোববার সরেজমিন ঘুরে দেয়া যায়, রাজধানীর কাকরাইলের সার্কিট হাউজ রোডস্থ সুউচ্চ ভবনটি কাজ যথাসময়ে শেষ করতে সারাদিন কয়েক শত শ্রমিক কঠোর কাজ করছে। কেউ বা আবার চারপাশের দেয়ালের কাজ করছে। মূল ভবনের ঢালাইয়ের কাজ শেষ, বর্তমানে ভবনটিতে রংকরণ, টাইলস, দরজা-জানালা স্থাপন, থাই ও ফিনিশিংয়ের কাজও শেষদিকে। বাকি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগের কাজ। ভবনটি ছাদ তৈরি করা হয়েছে এক ধরনের পাথর দ্বারা যাতে করে ছাদ নিচের রুমে রোদের তাপ সহনীয় পর্যায়ে থাকে। সব মিলে ভবনের ৯৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একজন শ্রমিক জানালেন, ঢাকা শহরের যতগুলো কাজ করেছি এর মধ্যে এই ভবনটিতে অত্যাধুনিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। তিনি আরো বলেন, এখানে ইট, পাথর, বালিগুলো অন্যান্য ভবনের চেয়ে আলাদা ছিল। প্রধান বিচারপতির বাস ভবনের উল্টো পাশে সার্কিট হাউজ রোডস্থ দেড় একর জমির ওপর ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১শ’ ৭৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে বরাদ্দ আরো একবার বৃদ্ধি করা হয়। পূর্বে চলতি বছর জুন মাসে ভবনটির কাজ সমাপ্ত করার কথা ছিল। বিচারপতিদের ভবনটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য পরবর্তীতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সময় দেয়া হয়। এর আগে ডামি নকশা সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনকে দেখান নির্মাতা কোম্পানি দি সিভিল ইঞ্জনিয়ারিং লিমিটেড। ভবনটির নির্মাণের প্রধান স্থপতি হিসেবে আছেন আহসানুল হক খান, কাজী গোলাম নাসির ও তাবাসসুম মাহমুদ। নকশাকার সৈয়দ মো. সেলিম ও শফিকুল ইসলাম।
ভবনটিতে যা যা থাকছে : নবনির্মিত ভবনটিতে স্ব-পরিবার নিয়ে বাস করার জন্য একেকজন বিচারপতি পাবেন সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধাসহ ভবনটিতে প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্য চারপাশে চারটি ফটক থাকছে। আর উপরে উঠা-নামার জন্য জন্য থাকবে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্বলিত তিনটি লিফট। এছাড়াও থাকছে তিনটি সিঁড়ি। আর বিচারপতিদের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে ভবনটির নিচের তলায়। ভবনটি একটি হলে চারপাশ থেকে দেখা যাবে চারটি পৃথক পৃথক ভবন। ভূমিকম্প সহনীয় ব্যবহার করা হয়েছে যন্ত্র। এছাড়াও থাকছে অভ্যন্তরীণ পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুব্যবস্থা। বিচারপতি পাবেন একটি ফ্ল্যাটে প্রায় ৮-১০টি রুম, বিচারপতির পি-এর জন্য থাকছে একটি অফিস রুম। আর বিচারপতিদের রায় লেখাসহ অন্যান্য কাজের পাবেন একটি চেম্বার রুমও।
সুপ্রিমকোর্ট রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা রাজধানীর বিভিন্ন অনেকে ভাড়া বাসায় বা সরকারি বাসায় বসবাস করছেন। এতে সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এসব দিক-বিবেচনা করেই ২০১২ সালের ৬ মার্চ এ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক)। ২০১১ সালের ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর ২০১৩ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সময় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের সময় আর ভবনটির নির্মাণের কাজ আর গতি পায়নি। তারপর বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর বিচারিক সেবার মান উন্নয়নেসহ নানা উদ্যোগ নেন। তার অংশ হিসেব ভবনটির পুরোদমে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দেড় একর জমিতে ৩০ তলা ভিত্তির ওপর ২০ তলা এ ভবনের নির্মাণ কাজ চলে। ২০১২ সালে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জুন মাসে সুপ্রিমকোর্টের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি ভবনে এসটিপি স্থাপনের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর এবং প্রকল্প ব্যয় ১৪১ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৭৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
জানা যায়, আগামী মাসে ভবনটি সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অথবা প্রধান বিচারপতি দেশের উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের ২০ তলা বিশিষ্ট ভবনটির উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সিনিয়র ও জুনিয়র অনুযায়ী বিচারপতিদের জন্য ফ্ল্যাটটি বরাদ্দ দিবেন। এরপর বিচারপতিরা একই ছাদের নিচে বসবাস করতে পারবেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এটা বিচার বিভাগের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অংশ। যা বিচার কাজে যেমন গতি বৃদ্ধি করবে, তেমনিভাবে বিচার প্রার্থীদের মামলা বছরের পর বছর নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 103 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ